সংবাদ কলকাতা— নির্বাচিত পুরবোর্ড দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও পুরনিগম এলাকায় নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে বড় পদক্ষেপ নিল পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত শুনে তার সমাধান করার লক্ষ্যে প্রতিটি পুরসভা ও পুরনিগমে গ্রিভান্স সেলের দায়িত্বে এক জন করে নোডাল অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই গ্রিভান্স সেল চালু থাকবে বলে জানিয়েছে দফতর।
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের ‘মুখোমুখি’ কর্মসূচিতে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, প্রতিটি পুরসভা ও পুরনিগমে একজন নোডাল অফিসার থাকবেন, যিনি সরাসরি নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ এবং তার দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে নজর রাখবেন। শুধু অভিযোগ শোনাই নয়, সেই সমস্যার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানান মন্ত্রী।
অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, ‘শুধু মুখোমুখি কর্মসূচি করলেই হবে না। মানুষের সমস্যার কথা শুনতে হবে। একই সঙ্গে সেই সমস্যার দ্রুত সমাধানও করতে হবে।’ তাঁর কথায়, নাগরিকদের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় করে তুলতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পুরো ব্যবস্থার সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের আধিকারিক শান্তনু নাহাকে। তিনি দফতরের পক্ষ থেকে নিযুক্ত নোডাল অফিসারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন পুরসভা ও পুরনিগমের নাগরিক সমস্যার তথ্য সংগ্রহ করবেন। কোন এলাকায় কী ধরনের সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার জেরে একাধিক পুরসভা ও পুরনিগমে প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত কলকাতা, বিধাননগর-সহ একাধিক পুরসভার মেয়র পদত্যাগ করেছেন। ফলে বহু জায়গায় নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে গিয়েছে। আবার কোথাও বোর্ড বহাল থাকলেও কাউন্সিলরদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং নাগরিক পরিষেবার উপর।
এই পরিস্থিতিতে পুর পরিষেবা সচল রাখা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা যাতে দ্রুত মেটানো যায়, সেই দিকেই জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছরের শুরুতেই রাজ্যের শতাধিক পুরসভার নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন নির্বাচিত বোর্ড দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত পুরসভাগুলির প্রশাসনিক দায়িত্ব মূলত রাজ্য সরকারের উপরেই থাকবে। সেই সময়ের মধ্যে জল, নিকাশি, বর্জ্য অপসারণ, রাস্তা, আলো-সহ বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয় এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়, সেই লক্ষ্যেই প্রতিটি পুরসভা ও পুরনিগমে নোডাল অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
