July 28, 2026
রাজ্য

বাসভাড়া বৃদ্ধির দাবি, বকেয়া জরিমানা মকুব চেয়ে পরিবহণমন্ত্রীর দ্বারস্থ বাসমালিকেরা

সংবাদ কলকাতা— রাজ্যের বেসরকারি বাস পরিষেবা সচল রাখতে দ্রুত বাসভাড়া পুনর্বিবেচনা এবং ৪ মে ২০২৬-এর আগে জমে থাকা বিভিন্ন বকেয়া জরিমানা এককালীন মকুবের দাবি জানাল সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসেস। এই দাবিতে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছে সংগঠনটি। বাসমালিকদের দাবি, বর্তমান ব্যয় বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে পুরনো ভাড়ায় পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না। এর জেরে একাধিক রুটে বাসের সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের উপর।

চিঠিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সর্বশেষ ২০১৮ সালে রাজ্যে বাসভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সেই সময় ডিজেলের দাম ছিল লিটারপিছু প্রায় ৬৮ টাকা। বর্তমানে সেই দাম ৯০ টাকার গণ্ডি পেরিয়েছে। শুধু জ্বালানির খরচই নয়, বিমার প্রিমিয়াম, যন্ত্রাংশের দাম, রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় এবং অন্যান্য পরিচালন খরচও গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে ২০১৮ সালের নির্ধারিত ভাড়ায় পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া বাসমালিকদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে বলে দাবি সংগঠনের।

বাসমালিকদের বক্তব্য, ভাড়া দীর্ঘদিন সংশোধন না হওয়ায় অনেক রুটে পরিষেবা অলাভজনক হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক মালিক বাস নামাতে অনীহা দেখাচ্ছেন। এর ফলে শহর ও শহরতলির একাধিক রুটে বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তাই জনস্বার্থে এবং রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থা সচল রাখতে অবিলম্বে বাসভাড়া পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে।

বাসমালিকদের আর একটি বড় দাবি, ৪ মে ২০২৬-এর আগে জমে থাকা সমস্ত সিএফ, কর এবং পারমিট নবীকরণ সংক্রান্ত বকেয়া জরিমানা এককালীন সম্পূর্ণ মকুব করা হোক। সংগঠনের নেতা টিটু সাহা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির কারণে বাসমালিকদের উপর জরিমানা চাপানো হয়েছে। এর মধ্যে সিএফ সংক্রান্ত জরিমানা, করের বকেয়া এবং পারমিট নবীকরণ সংক্রান্ত জরিমানাও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিপুল আর্থিক বোঝা বহন করতে গিয়ে অনেকেই গাড়ির নথিপত্র নবীকরণ বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে পারছেন না।

সংগঠনের দাবি, জরিমানার ভারে জর্জরিত হওয়ায় বহু বাস রাস্তায় নামানো যাচ্ছে না। ফলে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থা। এই পরিস্থিতিতে বকেয়া জরিমানা মকুব করা হলে বহু বন্ধ বাস ফের রাস্তায় নামানো সম্ভব হবে এবং যাত্রী পরিষেবাও স্বাভাবিক হবে।

চিঠিতে ‘বাহন’ পোর্টালে জমে থাকা সমস্ত বকেয়া জরিমানার নিষ্পত্তির আবেদনও জানানো হয়েছে। বাসমালিকদের প্রতিশ্রুতি, সরকার যদি এককালীন জরিমানা মকুবের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সমস্ত গাড়ির সিএফ নবীকরণ, কর পরিশোধ এবং পারমিট নবীকরণের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বাসকে রাস্তায় চলাচলের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ৪ মে ২০২৬-এর পর নতুন করে কোনও জরিমানা হলে তা নিয়ম মেনেই পরিশোধ করা হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবহণ দফতরের সাম্প্রতিক কয়েকটি পদক্ষেপের প্রশংসাও করেছে বাসমালিকদের সংগঠন। বিশেষ করে ভিএলটিডি রিচার্জ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপের ফলে বহু বন্ধ বাসের সিএফ নবীকরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংগঠনের আশা, এবার বাসভাড়া সংশোধন এবং এককালীন জরিমানা মকুবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে হাজার হাজার বাসচালক, কন্ডাক্টর, কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের আর্থিক স্বস্তি মিলবে। একই সঙ্গে রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল হয়ে উঠবে।

Related posts

Leave a Comment