কলকাতা — ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসার পর ভুল চিকিৎসার জেরে ডান পা হারানোর অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হল। অভিযোগকারিণী মালতী বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারকে আগামী সোমবার সমস্ত নথিপত্র-সহ স্বাস্থ্য ভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। ঘটনার অভিযোগ সামনে আসার পরই স্বাস্থ্য দফতর বিষয়টিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে।
মালতী বিশ্বাসের অভিযোগ, ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচিতে চিকিৎসার পর জটিলতা তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়। এই ঘটনায় তিনি রবীন্দ্রনগর থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তবে দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দল কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চায় না।
তিনি বলেন, ‘পুরো বিষয়টি না জেনে এখনই মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আমরা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। ওই মহিলা শুধুমাত্র “সেবাশ্রয়”-এ চিকিৎসা করানোর ফলেই পঙ্গু হয়েছেন কি না, তা আগে যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্তের পরেই এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রাখা সম্ভব।’
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচিকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। রবীন্দ্রনগর থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর ছাড়াও এর আগে বিষ্ণুপুর থানায় এই স্বাস্থ্য শিবিরকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়ম, সরকারি পরিকাঠামোর অপব্যবহার এবং বিপুল পরিমাণ ওষুধ নষ্ট করার অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের হয়েছিল।
তবে এই সমস্ত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে তৃণমূল। দলের বক্তব্য, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। দল জানিয়েছে, সমস্ত অভিযোগের আইনি মোকাবিলা করা হবে।
এদিকে, মালতী বিশ্বাসের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে স্বাস্থ্য দফতর সমস্ত চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখবে বলে সূত্রের খবর। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে কি না, তা তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।
