27 C
Kolkata
October 28, 2026
রাজ্য

শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ! নবান্নে বড় সিদ্ধান্ত

নবান্ন: এ বার থেকে রাজ্য সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে এসএসসি (SSC)-র মাধ্যমে নবনিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা আর প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধানসভা কিংবা লোকসভা— কোনও স্তরের নির্বাচনেই তাঁরা প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, দেশের অন্যান্য রাজ্যে সরকারি শিক্ষকেরা প্রত্যক্ষ রাজনীতি করতে পারেন না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও আজ ক্যাবিনেটে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ভবিষ্যতে নিয়োগ হওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকারা কোনও রকম প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না। তবে বর্তমানে কর্মরত বা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া শিক্ষকদের অধিকার এই মুহূর্তে খর্ব করা হচ্ছে না। রাজ্য সরকারের দাবি, অতীতে শিক্ষাব্যবস্থার যে ক্ষতি হয়েছিল, সেখান থেকে শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই এই সিদ্ধান্ত।


রাজনীতি ও শিক্ষক মহলে তীব্র বিতর্কের ঝড়:

সরকারের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই বিরোধীদের তোপ এবং শিক্ষক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে—

প্রদীপ ভট্টাচার্য (কংগ্রেস): এটিকে শিক্ষকদের গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর ‘কুঠারাঘাত’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “অন্যান্য রাজ্যে শিক্ষকেরা রাজনীতি করতে পারেন না— মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি অসত্য। এই সিদ্ধান্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।”

  • সুজন চক্রবর্তী (সিপিএম): পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবি তুলে তিনি বলেন, “স্কুলে শিক্ষক নেই, অথচ রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগের ৩০:১ অনুপাত পূরণে ব্যর্থ হয়ে পরিকাঠামোগত ত্রুটি ঢাকতে চাইছে সরকার।”
  • আখরুজ্জামান (গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস): সিদ্ধান্তের সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষকতা ও নেতাগিরি একসাথে করলে পড়ুয়ারা ভোগে। জনগণের স্বার্থে এটি সঠিক সিদ্ধান্ত।”
  • শিক্ষক সংগঠনগুলোর বক্তব্য: বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি (স্বপন মণ্ডল), এএসএইচএ (চন্দন মাইতি), মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (অনিমেষ হালদার) এবং এসইউসিআই (চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য)-এর মতে, শিক্ষকদের রাজনীতি থেকে দূরে ঠেলে দিলে সমাজের ক্ষতি হবে। অনেকেই দাবি তোলেন, আগে শিক্ষকদের পূর্ণ সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা দেওয়া হোক, তার পর এই নিয়ম প্রযোজ্য করা হোক।

অন্যদিকে, এ দিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে পুর, স্বাস্থ্য, পঞ্চায়েত, দমকল ও স্বরাষ্ট্র দফতর মিলিয়ে ১,১৯৯টি নতুন শূন্যপদ তৈরির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment