সংবাদ কলকাতা: দীর্ঘদিনের আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবর পেল মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব। জাতীয় লিগের প্রস্তুতির আগে সাদা-কালো শিবিরের পাশে দাঁড়াল আসবাবপত্র প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘লাক্সারি লিভিং ফার্নিচার’। সংস্থাটির সঙ্গে কো-স্পনসরশিপ নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ৩০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন স্পনসরের নাম ঘোষণা করতে পারে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
সংস্থার কর্ণধার সম্রাট রায় বুধবার জানিয়েছেন, মহমেডানের সঙ্গে যুক্ত হতে তাঁরা আগ্রহী ছিলেন। ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, সংস্থার আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও সেই ক্ষমতার মধ্যেই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে স্পনসরশিপের আর্থিক অঙ্ক এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দু’পক্ষের মধ্যে শেষ পর্যায়ের আলোচনা চলছে। চুক্তির শর্ত এবং আর্থিক সহায়তার পরিমাণ চূড়ান্ত হওয়ার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়ার কথা।

চেক বাউন্সে বেড়েছিল সঙ্কট
মহমেডানের আর্থিক সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ক্লাবকে ২৫ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর দেওয়া একাধিক চেক বাউন্স করায় ক্লাবের আর্থিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে তাঁকে ক্লাবের সভাপতির পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে ক্লাবের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ও ফুটবলারদের বেতন নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। নতুন কো-স্পনসর পাওয়ার সম্ভাবনায় সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার আশা করছেন সমর্থকেরা।
অনুশীলনে ফিরলেন ফুটবলাররা
আর্থিক সমস্যার মধ্যেই এবার অনুশীলনেও ফিরেছে মহমেডান। বেতন সংক্রান্ত জটিলতা মেটার পর বুধবার ১০ জন ফুটবলারকে নিয়ে অনুশীলন শুরু হয়েছে। জাতীয় লিগের আগে দলকে প্রস্তুত করে তোলাই এখন ক্লাবের প্রধান লক্ষ্য।
নতুন স্পনসরশিপ চুক্তি সম্পন্ন হলে ক্লাবের আর্থিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কট কাটাতে এই সহায়তা কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে চুক্তির অঙ্ক এবং পরবর্তী আর্থিক পরিকল্পনার উপর।
