সংবাদ কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ঝড়বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব, বৃষ্টির সতর্কতা বাংলায়
সংবাদ কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঝড়বৃষ্টি এবং ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদেরও সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের ২৭ অক্টোবরের বুলেটিন অনুযায়ী, অর্ণব অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায়, ইয়ানামের কাছাকাছি দিয়ে ২৮ অক্টোবর সকালে স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঝড়ের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রত্যক্ষ প্রভাব অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে পড়লেও এর বাইরের বলয়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গেও বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণভাবে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ফলে নিচু এলাকা, উপকূলবর্তী বসতি এবং খোলা জায়গায় থাকা মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে বৃষ্টির পরিমাণ এবং হাওয়ার তীব্রতা বদলাতে পারে।
উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়ার পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির জেরে ধস নামার আশঙ্কা থাকায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। শনিবারও পাহাড় ও সংলগ্ন কয়েকটি জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে পরিস্থিতি উত্তাল থেকে অতি উত্তাল হতে পারে। তাই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রে থাকা মৎস্যজীবীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসার নির্দেশও স্থানীয় প্রশাসনের তরফে দেওয়া হতে পারে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী বুলেটিন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকা জরুরি।
