মেলবোর্ন—ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ় আয়োজন করে বিপুল আর্থিক লাভের মুখ দেখল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থার মোট লাভ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২৪ কোটি টাকা। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, আগের অর্থবর্ষের তুলনায় লাভের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৫৪২ কোটি টাকা। ভারতীয় দলের অস্ট্রেলিয়া সফর, সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আয় এবং দর্শকদের বিপুল উপস্থিতি এই আর্থিক সাফল্যের অন্যতম কারণ বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে, অ্যাশেজ় সিরিজ়ের কয়েকটি টেস্ট দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আয় কমেছে অস্ট্রেলিয়ার।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আয়ের ক্ষেত্রে ভারতের সাদা বলের সিরিজ় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির মতো তারকা ক্রিকেটারদের অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলা দেখার জন্য দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সেই আগ্রহের প্রভাব পড়ে মাঠে দর্শকসংখ্যা এবং টিকিট বিক্রিতে। পাশাপাশি, ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ়ের সম্প্রচার ও সংবাদমাধ্যমের স্বত্ব থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হয়েছে। ফলে বিভিন্ন খাত থেকে আয় বেড়ে যাওয়ায় সংস্থার মোট লাভও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে অ্যাশেজ় সিরিজ়ের গুরুত্ব বরাবরই অনেক। কিন্তু গত অর্থবর্ষে এই সিরিজ়ের দুটি টেস্ট মাত্র দু’দিনে শেষ হয়ে যাওয়ায় আয় প্রত্যাশামতো হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে খেলা চললে টিকিট বিক্রি, মাঠের অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যকলাপ এবং সম্প্রচার থেকে আয়ের সুযোগ বাড়ে। ম্যাচ দ্রুত শেষ হয়ে গেলে সেই সুযোগ কমে যায়। এই কারণেই অ্যাশেজ়ের দুটি টেস্ট থেকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রায় দেড় কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক আর্থিক সাফল্য সত্ত্বেও আগামী দুই অর্থবর্ষ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। এর অন্যতম কারণ সম্প্রচার ও সংবাদমাধ্যমের স্বত্ব থেকে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা। ভারতীয় দলের সফর ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ এবং সম্প্রচারকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা সাধারণত বড় অঙ্কের চুক্তির সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারত কবে খেলবে, তা নিয়ে সূচি এখনও স্পষ্ট না হলে সম্প্রচারকারীরা চুক্তির মূল্য কমানোর চেষ্টা করতে পারে।
২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতীয় দলের পরবর্তী সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় আর্থিক পরিকল্পনাতেও প্রভাব পড়তে পারে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের ম্যাচ সম্প্রচার করার অধিকার থেকে বিপুল আয় হয় বলে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগামী দিনে সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি এবং দর্শকদের আগ্রহ—এই তিনটি বিষয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আয়ের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রেকর্ড লাভ করলেও ভবিষ্যতের আয় ধরে রাখা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতের সফর যে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের বাণিজ্যিক সাফল্যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সাম্প্রতিক আর্থিক হিসাবেই তা স্পষ্ট।
