সংবাদ কলকাতা: বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন (বিজিবিএস) আয়োজনের নামে আগের সরকার শত শত কোটি টাকা খরচ করলেও রাজ্যে শিল্পের প্রত্যাশিত বিকাশ হয়নি। শিল্পের নামে জালিয়াতি হয়েছে বলেও অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে তাঁর সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলে জানালেন তিনি। প্রতি মাসে নতুন কোনও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবার, ২৫ অক্টোবর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোয় পদপিষ্ট হয়ে মৃত কল্পনা জানার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের হাতে সরকারি সাহায্য তুলে দেওয়ার পরই রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান এবং আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নিজের বক্তব্য জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় কাজ শুরু হয়েছে। একাধিক প্রকল্পের ভূমিপূজনও করা হয়েছে। এই উদ্যোগ একবারের জন্য নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে চলবে। প্রতি মাসেই নতুন কোনও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। তাঁর দাবি, রাজ্য ও জাতীয় স্তরের একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
আগের সরকারের আমলে আয়োজিত বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, শিল্পের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও তার বাস্তব ফল মানুষ দেখতে পাননি। তাঁর অভিযোগ, বিজিবিএস আয়োজন করতে শত শত কোটি টাকা খরচ হয়েছে, অথচ রাজ্যে শিল্পের উল্লেখযোগ্য প্রসার ঘটেনি। শিল্পের নামে প্রতারণার অভিযোগও তোলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, তাঁর সরকার বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। তবে বিনিয়োগের নামে কোনও প্রতারণা বরদাস্ত করা হবে না। আগের সরকারের সময় বাণিজ্য সম্মেলনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, তার পরিবর্তে বর্তমান সরকার বাস্তব কাজের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজ্যের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া প্রয়োজন। যুবক-যুবতীরা যাতে কাজের সুযোগ পান এবং ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকেরা যাতে নিজেদের রাজ্যে ফিরে আসতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই সরকারকে এগোতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের উন্নতি ও আর্থিক সচ্ছলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শিল্পের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রেও একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সে জন্য বিভিন্ন আইআইটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, আদানি গোষ্ঠী-সহ বড় শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে রাজ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।
এ দিনের সফরে মুখ্যমন্ত্রী শিল্পের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি চোরবাগানের দুর্ঘটনায় স্বজনহারা পরিবারের পাশে থাকার কথাও জানান। কল্পনা জানার পরিবারের দুই খুদে সদস্যের অভিভাবক হিসেবে পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। দুর্ঘটনায় মৃত অন্য দুই ভিন্রাজ্যের বাসিন্দার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে।
শিল্প সম্মেলন ঘিরে আগের সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সামনে এনে শুভেন্দু স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—বিনিয়োগ, শিল্পের প্রসার এবং কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়েই রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় তাঁর সরকার।
