29 C
Kolkata
October 25, 2026
দেশ বিদেশ

মোদীকে নিয়ে মন্তব্যে বিতর্কে খড়্গে, পাল্টা শাহের

পটনা— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করতে গিয়ে এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়ালেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। রবিবার পটনায় এক সভায় বক্তৃতা করার সময় দর্শকাসন থেকে এক ব্যক্তির মন্তব্য শুনে উত্তেজিত হয়ে পড়েন তিনি। জবাবে মোদীর প্রয়াত বাবাকে উল্লেখ করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন খড়্গে। সেই বক্তব্যের পরেই কংগ্রেস সভাপতিকে নিশানা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজনৈতিক বিরোধিতার ক্ষেত্রে শালীনতার সীমা অতিক্রম করছে।

বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংহের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পটনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন খড়্গে। সেই সময় দর্শকাসন থেকে এক ব্যক্তির মুখে শোনা যায়, মোদী ক্ষমতা থেকে যাচ্ছেন না। এই মন্তব্যের জবাবে খড়্গে বলেন, ‘মোদীর বাবাও চলে যাবেন।’ একই ধরনের মন্তব্য একাধিকবার করেন তিনি। ঘটনার পরেই সভাকক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।



তবে বিতর্কের সূত্রপাত ঘিরে অন্য একটি দাবিও সামনে এসেছে। সন্তোষ কুমার নামে ওই ব্যক্তি পরে দাবি করেন, তাঁর পুরো বক্তব্য শোনা হয়নি। তিনি আসলে বলতে চেয়েছিলেন, বিদ্রোহ না হলে মোদী ক্ষমতা থেকে যাবেন না। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ শুনেই তাঁকে ভুল বোঝা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর সভায় উপস্থিত কয়েক জন তাঁকে মারধর করে বাইরে বের করে দেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে, খড়্গে তাঁর বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। খড়্গের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একসময় ১০০ দিনের মধ্যে কালো টাকা ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন। সেই টাকা কোথায়, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস সভাপতি। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘেরও সমালোচনা করেন তিনি।

খড়্গের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই পাল্টা আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, মোদীর প্রয়াত বাবাকে নিয়ে এমন মন্তব্য শালীনতার সীমা ছাড়িয়েছে। কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান ও নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শাহের অভিযোগ, একের পর এক নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে কংগ্রেস হতাশ হয়ে পড়েছে এবং সেই কারণেই দলের নেতারা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছেন।

অমিত শাহ আরও দাবি করেন, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস ক্রমশ শালীনতার সীমা অতিক্রম করছে। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক বিরোধিতা করা গণতন্ত্রের অংশ হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়। কংগ্রেস নেতৃত্বের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দলটি নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে।

এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে কংগ্রেস ও বিজেপির সংঘাত সামনে এসেছে। একদিকে খড়্গের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে সভায় উপস্থিত ব্যক্তির বক্তব্য ভুল বোঝার দাবি ঘটনাটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ওই ব্যক্তি ঠিক কী বলেছিলেন এবং কীভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, তা নিয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।

Related posts

Leave a Comment