29 C
Kolkata
October 25, 2026
রাজ্য

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, বৃষ্টির সতর্কতা বাংলায়

সংবাদ কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার, ২৫ অক্টোবর নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। সোমবার, ২৬ অক্টোবর সকালের মধ্যে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরে মঙ্গলবার শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে এই সামুদ্রিক ব্যবস্থা। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তার নাম হবে ‘অর্ণব’। বুধবার, ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের রবিবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব অংশে নিম্নচাপটি অবস্থান করছে। রবিবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ সেটি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের শ্রীবিজয়পুরম থেকে প্রায় ৪৪০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৮৮০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে ছিল। ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সকালে বঙ্গোপসাগরের উপর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে নিম্নচাপটি। এরপর আরও শক্তি বাড়িয়ে মঙ্গলবার প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায় স্থলভাগে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। সেই সময় ঝড়ের স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত। তবে ঝড়ের গতিপথ ও শক্তির বিষয়ে পরবর্তী পূর্বাভাসে পরিবর্তন হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর থেকে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠার আশঙ্কায় মৎস্যজীবীদের ওই দিন থেকে সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদেরও দ্রুত উপকূলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সতর্কতা মেনে চলার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

দক্ষিণবঙ্গেও বুধবার থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়া বইতে পারে।

কলকাতা, হাওড়া ও হুগলি-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সমুদ্রসংলগ্ন জায়গায় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াতেও বদলের আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টি বাড়লে ধসের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। নিচু এলাকায় জল জমার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ঘূর্ণিঝড়টি সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আছড়ে পড়ার পূর্বাভাস না থাকলেও এর প্রভাবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া দপ্তরের নিয়মিত সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, শক্তি এবং স্থলভাগে প্রবেশের সময়ের উপর বাংলার আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।

Related posts

Leave a Comment