29 C
Kolkata
October 25, 2026
খেলা

পডিক্কলের ব্যাটে বাঁচল ভারত, ব্যর্থ যশস্বী-রাহুল

লিঙ্কন— দুই ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল ও লোকেশ রাহুলের পর পর ব্যর্থতায় যখন চাপে ভারত ‘এ’, তখন দলের ভরসা হয়ে উঠলেন দেবদত্ত পডিক্কল। নিউ জিল্যান্ড ‘এ’-র বিরুদ্ধে চার দিনের বেসরকারি টেস্টের দ্বিতীয় দিনে তাঁর অপরাজিত অর্ধশতরান এবং সাই সুদর্শনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভারতকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। প্রথম ইনিংসে ৩২ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও নিজের ছন্দ ধরে রেখেছেন বাঁহাতি ব্যাটার। দিনের শেষে ৫৬ রানে অপরাজিত পডিক্কলই ভারতীয় শিবিরের সবচেয়ে বড় ভরসা।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে ভারত ‘এ’। দুই ওপেনার যশস্বী ও রাহুল দ্রুত ফিরে যাওয়ায় মাত্র ১০ রানে ২ উইকেট হারায় দল। ফলে দ্বিতীয় দিনেই ভারত আরও বড় ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ক্রিজে এসে ইনিংসের হাল ধরেন পডিক্কল। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাট করেন তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণাত্মক শট খেলতেও পিছপা হননি। তাঁর ৮৯ বলের অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংসে রয়েছে ৯টি চার।

পডিক্কলের সঙ্গে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন সাই সুদর্শনও। দুই বাঁহাতি ব্যাটারের অবিচ্ছিন্ন জুটি ভারতকে আর কোনও উইকেট হারাতে দেয়নি। সুদর্শন ১০৪ বল খেলে ৩৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৫টি চার। পডিক্কল যেখানে সুযোগ বুঝে রান বাড়িয়েছেন, সেখানে সুদর্শন উইকেট ধরে রেখে দলের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। দু’জনের মধ্যে ৯৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ভারতকে ম্যাচে লড়াইয়ে ফিরিয়েছে।



প্রথম ইনিংসে ভারত ‘এ’-র ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। দল মাত্র ১১৩ রানে অলআউট হয়ে যায়। জবাবে নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ ৩১৭ রান তোলে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২০৪ রানের বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে দিনের শেষে ২ উইকেটে ১০৬ রান তুলেছে তারা। এখনও নিউ জিল্যান্ডের চেয়ে ৯৮ রানে পিছিয়ে ভারত ‘এ’। পডিক্কল ও সুদর্শনের জুটি আরও বড় হলে সেই ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে ভারতীয় দলের দুই অভিজ্ঞ ওপেনারের ব্যর্থতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রথম ইনিংসে যশস্বী ১৭ রান করলেও রাহুল কোনও রান করতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে যশস্বী করেন ৫ এবং রাহুলের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৪ রান। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁদের ব্যাটে বড় রান না আসায় দলের উপর চাপ তৈরি হয়েছে। নিউ জিল্যান্ডের পরিবেশ ও পিচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাঁদের ভারত ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দুই ইনিংসেই এমন দ্রুত বিদায় তাঁদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ভারতের সিনিয়র টেস্ট দলে যশস্বী ও রাহুল দু’জনেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার। বিদেশের মাটিতে কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট করার অভিজ্ঞতা বাড়ানো এবং আসন্ন সিরিজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ম্যাচ তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুই ইনিংসেই রান না পাওয়ায় তাঁদের ছন্দ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে কোনও ব্যাটারের সামগ্রিক দক্ষতা বিচার করা যায় না, তবু প্রস্তুতি ম্যাচে বড় রান পাওয়া যে আত্মবিশ্বাস বাড়াত, তা বলাই বাহুল্য।



অন্যদিকে, পডিক্কল নিজের ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচকদের সামনে দাবি আরও জোরালো করছেন। প্রথম ইনিংসে দলের দ্বিতীয় সর্বাধিক রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তাঁর লড়াই দেখিয়েছে, কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি দায়িত্ব নিতে পারেন। সুদর্শনও ধৈর্য ধরে ব্যাট করে নিজের জায়গার দাবিকে জিইয়ে রেখেছেন। ফলে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের আসন্ন টেস্ট সিরিজে প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াই আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

এখন ভারত ‘এ’-র লক্ষ্য হবে তৃতীয় দিনে পডিক্কল ও সুদর্শনের জুটিকে আরও বড় করা, প্রথম ইনিংসের ঘাটতি মেটানো এবং নিউ জিল্যান্ডের সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করা। ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে শুধু এই দুই ব্যাটার নয়, পরের ব্যাটারদেরও দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। পডিক্কলের ব্যাটে যে আশার আলো দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় দল সেটাকে কতটা কাজে লাগাতে পারে, সেটাই এখন দেখার।

Related posts

Leave a Comment