July 2, 2026
রাজ্য

৭ জুলাই দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, ১ আগস্ট থেকে ডিজিটাল জাতিগত জনগণনা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপে রাজ্য

সংবাদ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে আরও কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৭ জুলাই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়গুলিই গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জোকায় ভারত সেবাশ্রম হাসপাতালের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্ধারিত নির্দেশিকা মেনেই কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের কাজ করবে। বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও ওই বৈঠকে যোগ দেবেন।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইতিমধ্যেই অনুপ্রবেশ রোধে প্রথম ধাপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষাবাহিনী বা বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ১২টি বিশেষ ‘হোল্ডিং স্টেশন’ তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, এই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে আন্তর্জাতিক প্রোটোকল মেনে সীমান্ত পার করে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার ব্যক্তি ওই কেন্দ্রগুলিতে রয়েছেন।

তিনি জানান, সীমান্তবর্তী থানাগুলি এখন বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি জেলে পাঠানোর পরিবর্তে নির্দিষ্ট হোল্ডিং স্টেশনে রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের পর আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলিও খতিয়ে দেখার কাজ চলছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যের দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রকৃত চিত্র সামনে আনতেই আগামী ১ আগস্ট থেকে পশ্চিমব্যাপী ডিজিটাল জাতিগত জনগণনা শুরু হবে। এই জনগণনায় প্রথমবারের মতো স্ব-ঘোষণার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জনগণনার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই তথ্য ভবিষ্যতে অনুপ্রবেশ রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক হবে।

এদিকে, দেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে জনবিন্যাসের পরিবর্তন পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্র যে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে, তারা শীঘ্রই বিভিন্ন রাজ্য সফর শুরু করবে। প্রথম পর্যায়েই পশ্চিমবঙ্গও সেই তালিকায় রয়েছে। সফরের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে কমিটির প্রস্তুতি বৈঠক হয়েছে। সূত্রের খবর, বিভিন্ন রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত প্রশ্নমালা তৈরি করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক প্রভাব খতিয়ে দেখাই হবে কমিটির প্রধান লক্ষ্য।

পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাস পরিবর্তনের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম বিষয়। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনেও এই ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচার চালিয়েছিল বিজেপি। নতুন সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে এই বিষয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বাড়তে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment