মুম্বই— বলিউডে নারীকেন্দ্রিক ছবির বাণিজ্যিক সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিনেত্রী রাধিকা আপ্টে। তাঁর মতে, ভাল গল্প, চিত্রনাট্য ও অভিনয় থাকলেই যে কোনও ছবি বক্স অফিসে সফল হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে কোনও ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনেত্রী থাকলে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানার বিষয়টি নিয়ে নির্মাতাদের বাড়তি চিন্তা করতে হয়। তাঁর বক্তব্য, আলিয়া ভট্ট বা দীপিকা পাড়ুকোনের মতো তারকা থাকলে ছবি মুক্তির প্রথম দিন থেকেই ভাল ব্যবসার আশা করা যায়। কিন্তু তাঁর মতো অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে সেই নিশ্চয়তা নেই।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলিউডে নারীকেন্দ্রিক ছবির ভবিষ্যৎ এবং প্রেক্ষাগৃহে ছবি মুক্তির ক্ষেত্রে অভিনেত্রীদের নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিজের মতামত জানান রাধিকা। তাঁর কথায়, গত কয়েক বছরে কোন ছবি দর্শকের পছন্দ হবে, আর কোন ছবি বক্স অফিসে সাফল্য পাবে না, তা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে কোনও ছবির গল্প ভাল হলেও শুধু সেই কারণে ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিত হয় না।
রাধিকা জানান, তিনি কোনও ছবিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সেটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে, নাকি সরাসরি ওটিটি মাধ্যমে দর্শকের কাছে পৌঁছবে, তা নিয়ে বিশেষ ভাবেন না। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল কাজটি দর্শকের কাছে পৌঁছনো। তবে ছবি কোথায় মুক্তি পাবে, তা ঠিক করার পিছনে একাধিক বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত কাজ করে। তাই অনেক সময় নির্মাতারা ছবির বিষয়বস্তু বা অভিনয়ের মানের পাশাপাশি সম্ভাব্য আয়ের কথাও মাথায় রাখেন।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে রাধিকা বলেন, তিনি মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করলেই যে একটি ভাল ছবি বক্স অফিসে সাফল্য পাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আলিয়া ভট্ট বা দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে নিজের তুলনা টেনে অভিনেত্রী জানান, ওই দুই তারকার মতো তাঁর নামের উপর নির্ভর করে প্রেক্ষাগৃহে প্রথম দিন ভাল ব্যবসার আশা করা যায় না। তাঁর মতে, এই কারণেই বাণিজ্যিক ছবিতে অনেক সময় পুরুষ চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অভিনেত্রীদের তখন এমন ছবিতে কাজ করতে হয়, যেখানে পুরুষ অভিনেতারাই মূল ভূমিকায় থাকেন।
রাধিকার এই মন্তব্য বলিউডে নারীপ্রধান ছবির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি ছবিতে অভিনয়, শক্তিশালী চিত্রনাট্য এবং অভিনয়ের প্রশংসা পাওয়া গেলেও সব সময় সেই সাফল্য বক্স অফিসের আয়ে প্রতিফলিত হয় না। অন্যদিকে, বড় তারকাদের উপস্থিতি অনেক সময় ছবির প্রচার ও দর্শক টানার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই পরিস্থিতিতে অভিনেত্রীদের জন্য মূল চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ এবং সেই ছবির জন্য প্রেক্ষাগৃহে পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
অভিনেত্রী আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে হিংসা-নির্ভর ছবির জনপ্রিয়তা তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে। অতিরিক্ত মারধর ও হিংসাত্মক দৃশ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি ছবির অংশ হতে তিনি বিশেষ আগ্রহী নন। ফলে নিজের পছন্দের কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁকে নানা দিক বিবেচনা করতে হচ্ছে। একদিকে নারীকেন্দ্রিক ছবির বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে নিজের পছন্দের বিষয়বস্তু—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
‘স্যাক্রেড গেমস’, ‘মনিকা, ও মাই ডার্লিং’-এর মতো কাজের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন রাধিকা আপ্টে। তাঁর অভিনীত একাধিক ছবি ও সিরিজ সরাসরি ওটিটি মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছে। আসন্ন সিরিজ ‘আক্কা’-তেও দেখা যাবে তাঁকে। এই পরিস্থিতিতে প্রেক্ষাগৃহে নারীকেন্দ্রিক ছবির সাফল্য নিয়ে তাঁর বক্তব্য বলিউডে অভিনেত্রীদের কাজের সুযোগ, তারকাখ্যাতি এবং বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিল।
