July 28, 2026
রাজ্য

পুজোর আগেই ১৪ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ

পুলিশ আধুনিকীকরণে একাধিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

সংবাদ কলকাতা: রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে আধুনিক ও জনমুখী করে তুলতে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ বাহিনীতে নতুন নিয়োগ থেকে শুরু করে থানার পরিকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পুলিশ আবাসনের সংস্কার এবং নতুন তদন্তকারী সংস্থা গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের পুলিশি ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

মঙ্গলবার ভবানী ভবনে টোল-ফ্রি হেল্পলাইন পরিষেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই ১৪ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে। তাঁর দাবি, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া আগেই সম্পূর্ণ হয়েছিল। কিন্তু ওবিসি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তা আটকে ছিল। বর্তমানে সেই সমস্যা মিটে যাওয়ায় পুজোর আগেই নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজ্য পুলিশে প্রায় ৪৭ হাজার শূন্যপদ রয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে মোট এক লক্ষ পুলিশকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পুলিশের জনবল যেমন বাড়বে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিক পরিষেবা আরও শক্তিশালী হবে বলে তাঁর দাবি।

পুলিশের পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের উপরও বিশেষ জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, থানাগুলিতে আধুনিক ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থা, সিসিটিভি, বডি ক্যামেরা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি রাজ্যের পুলিশ কন্ট্রোল রুমগুলিকেও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর করে তোলা হবে, যাতে দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও তার নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।

শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, থানার পরিকাঠামো এবং পুলিশ আবাসনের উন্নয়নেও জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা একাধিক পুলিশ আবাসন সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পুরনো ও অচল হয়ে পড়া পুলিশি যানবাহনের পরিবর্তে আধুনিক গাড়ি কেনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। বহু গাড়ির বয়স ১৫ বছরের বেশি হয়ে যাওয়ায় সেগুলি পর্যায়ক্রমে বদলে নতুন যানবাহন আনা হবে।

গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র ধাঁচে রাজ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা ‘সিআইএ’ গঠন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ ও বিশেষ ধরনের মামলার তদন্তে এই সংস্থা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সরকারের আশা।

পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দেশে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় গড়ে ১৫৫ জন পুলিশকর্মী থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে সেই সংখ্যা মাত্র ১০৬। উত্তরপ্রদেশে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় প্রায় ২০০ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন। সেই মডেল অনুসরণ করেই পশ্চিমবঙ্গেও ধাপে ধাপে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশের সংখ্যা ২০০-তে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত জনবল এবং উন্নত পরিকাঠামোর মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের কর্মপরিবেশেরও উন্নয়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

Related posts

Leave a Comment