28 C
Kolkata
September 28, 2026
Uncategorized

নিম্নচাপে ভাসবে বাংলা, দক্ষিণে ভারী বৃষ্টি

কলকাতা — শ্রাবণের শেষেও বর্ষার দাপট কমার নাম নেই। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসায় আরও কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি চলবে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকবে।

লিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উপকূলীয় পশ্চিমবঙ্গের কাছে থাকা নিম্নচাপটি ঘণ্টায় প্রায় ১২ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়েছে। বৃহস্পতিবার নিম্নচাপের অবস্থান ছিল মেদিনীপুরের প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর পূর্বে। কলকাতা থেকে সেটি ছিল প্রায় ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে। বাঁকুড়া থেকে দূরত্ব ছিল প্রায় ১১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। পুরুলিয়া থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে এবং ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল নিম্নচাপটি।

শুক্রবার নিম্নচাপটি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে আরও পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোবে। ফলে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। এর সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে বর্ষাকালীন অক্ষরেখাও। পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের উপর দিয়ে বিস্তৃত সেই অক্ষরেখা পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকার কাছে এসে মিলেছে। নিম্নচাপ এবং অক্ষরেখার জোড়া প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার দাপট বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

শুক্রবার ও শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শুধু বৃষ্টি নয়, কয়েকটি এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ফলে উপকূল ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কলকাতাতেও এখনই বর্ষার বিরতি হচ্ছে না। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাব কমলে রবিবারের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে পারে। আপাতত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির জন্য নতুন কোনও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়নি।

উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগের পরিস্থিতি বজায় থাকবে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে রবিবার এবং সোমবার অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহারে টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহে রবিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে।

ই পরিস্থিতিতে পাহাড়ি এলাকায় ধস এবং নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা থাকছে। ভারী বৃষ্টির জেরে নদী ও জলাধারে জলের পরিমাণ বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কলকাতায় শুক্রবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৩ ডিগ্রি বেশি। বৃহস্পতিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের তুলনায় যা ৩.১ ডিগ্রি কম। দিনের তাপমাত্রা কম থাকলেও আর্দ্রতার কারণে অস্বস্তি পুরোপুরি কাটছে না।

সব মিলিয়ে শ্রাবণের শেষেও বর্ষার দাপট অব্যাহত বাংলায়। নিম্নচাপটি যতক্ষণ স্থলভাগের উপর দিয়ে এগোবে, ততক্ষণ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। উত্তরবঙ্গেও আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকবে।

Related posts

Leave a Comment