32 C
Kolkata
September 28, 2026
রাজ্য

‘সাধু-সন্তদের অপমান করলে জেল’, গীতাপাঠের মঞ্চে বার্তা শুভেন্দুর

সংবাদ কলকাতা: নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ১১ হাজার কণ্ঠের গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার পালনে ভয় না পাওয়ার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ‘বাঙ্গুর জাগরণ মঞ্চ’ (Bangur Jagaran Mancha) আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গীতা পাঠ ও বিতরণ, হনুমান চালিশা পাঠ কিংবা হরে কৃষ্ণ মন্ত্র উচ্চারণ নিয়ে কোনও ভয় থাকার কারণ নেই। একই সঙ্গে সাধু-সন্তদের অপমানের ঘটনায় জেল পর্যন্ত শাস্তির কথা বলেন তিনি।

মঞ্চে শুভেন্দুর বক্তব্যের অন্যতম বিষয় ছিল রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি। তিনি বলেন, ‘মৌসম বদলেছে, জমানাও বদলেছে।’ এরপর গীতা পাঠ, ধর্মীয় স্তোত্র পাঠ এবং ধর্মীয় বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে উপস্থিত সাধু-সন্তদের নির্ভয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাধু-সন্তদের অপমানের প্রসঙ্গে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী (Dhirendra Shastri)-কে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের কথাও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা সনাতন ধর্মের মাহাত্ম্য প্রচার করতে পারেন। কেউ তাঁদের বক্তব্য গ্রহণ করবেন কি না, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তবে সাধু-সন্তদের অপমান বা তাঁদের ছবি পোড়ানোর মতো ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

শুভেন্দু আরও দাবি করেন, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানোর ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে ওই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিধানসভাতেও তিনি সাধু-সন্তদের অপমানের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।

এ দিনের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রসঙ্গও উঠে আসে। শ্রীরামপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সভায় ‘আজ়াদি’ স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে এবং এই ধরনের স্লোগান নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এর পাশাপাশি বড় ধর্মীয় কর্মসূচির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি। ওই কর্মসূচিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) প্রধান অতিথি হিসেবে থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি।

রবিবারের অনুষ্ঠানে প্রায় ১১ হাজার মানুষ একসঙ্গে গীতাপাঠে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষে শুভেন্দুও গীতার একটি অধ্যায় পাঠ করেন। ধর্মীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কলকাতায় এমন বড় জমায়েতের পর আগামী ডিসেম্বরের কর্মসূচিকে ঘিরে আয়োজকদের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার কথা।

Related posts

Leave a Comment