সংবাদ কলকাতা: বিশ্বকর্মা পুজোর দিন আরক্ষা ভবনে নতুন লাইভ ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ট্রাফিক পরিস্থিতি এক জায়গা থেকে নজরে রাখতেই এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের পাশাপাশি যানজট সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে নতুন টোল-ফ্রি হেল্পলাইনও চালু হয়েছে। নম্বরটি হল ১৮০০৩৪৫৮৯২২।
নতুন কন্ট্রোল রুমে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও এলাকায় থাকা ক্যামেরার ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কোথাও যানজট, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনও সমস্যা তৈরি হলে দ্রুত তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার ট্রাফিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একই জায়গা থেকে তথ্য পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।
কন্ট্রোল রুম উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাস্তায় ইচ্ছাকৃত ভাবে যানজট তৈরি করা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হবে। নাগরিকেরা কোনও এলাকায় অস্বাভাবিক যানজট দেখতে পেলে টোল-ফ্রি নম্বরে জানাতে পারবেন। কেন ওই এলাকায় যানজট তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হচ্ছে। এবার থেকে যানজট মোকাবিলায় লাইভ কন্ট্রোল রুম কাজ করবে। ইচ্ছাকৃতভাবে যানজট দেখলে টোল ফ্রি ১৮০০৩৪৫৮৯২২ নম্বরে জানাতে পারবেন নাগরিকরা। কেন ট্রাফিকের চাপ, সেটা খতিয়ে দেখা হবে।’
শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও চেকপোস্টের উপরও নজরদারি চালানো হবে এই কেন্দ্র থেকে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ফরাক্কা, পালসিট, ডানকুনি এবং ধূলাগড় চেকপোস্টের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন বলে জানান। কোথায় নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন, কোথায় ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করতে হবে এবং কোথায় স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার প্রয়োজন—সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাস্তার বড় অংশ দখল করে গাড়ি পার্কিং করার ফলে যানজটের সমস্যা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় এই সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মতো এলাকায় রাস্তার বড় অংশে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পর্যটক—সকলকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
শুভেন্দু বলেন, ‘রাস্তার ৬০ শতাংশ অংশে গাড়ি পার্ক করা হচ্ছে। আগের সরকার পুলিশকে টাকা তুলতে বাধ্য করেছিল। আমরা এসব বন্ধ করে দিয়েছি। পাহাড়ে যানজট নিয়েও আমি চিন্তিত। কিন্তু পাহাড়ে পার্কিংয়ের জন্য জমি দেখতে বলেছি।’

পাহাড়ের যানজট মোকাবিলায় প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যেখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা সম্ভব নয়, সেখানে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক চেকপোস্টকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় দুর্ঘটনা বা আচমকা যানজটের মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্যামেরার মাধ্যমে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের প্রক্রিয়াও দ্রুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাহাড়ে পার্কিং সমস্যা মেটাতে স্থানীয় পরিস্থিতি ও পরিবেশের কথা মাথায় রেখে নতুন পার্কিং এলাকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের জেলাশাসকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী ৭ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রীর পাহাড় সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সফরে যানজট ও পার্কিং সমস্যা নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে।
প্রশাসনের এই নতুন উদ্যোগে কলকাতা থেকে পাহাড়—রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট, দুর্ঘটনা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উপর নজরদারি আরও জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে হোয়াটসঅ্যাপ ও মোবাইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থাও চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
