বেঙ্গালুরু— তিন বছর আগে যে কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে ভারতীয় ফুটবলে পথচলা শুরু হয়েছিল, এবার সেই মাঠেই ভারতের জার্সিতে ফিরছেন রায়ান উইলিয়ামস। বেঙ্গালুরু এফসির ৩২ বছরের উইঙ্গারের কাছে এই প্রত্যাবর্তন শুধুই আর একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয়, বরং তাঁর ফুটবলজীবনের এক ‘ফুল সার্কেল’ মুহূর্ত। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পানামার বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুতেই আন্তর্জাতিক উইন্ডো শুরু করবে ভারত।
কান্তিরাভা স্টেডিয়ামের সঙ্গে উইলিয়ামসের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বেঙ্গালুরু এফসির হয়ে এই মাঠেই ভারতীয় ফুটবলে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। এবার ক্লাবের পরিচিত জার্সির বদলে গায়ে উঠবে ভারতের নীল জার্সি। মার্চে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের পর এখনও পর্যন্ত ভারতের হয়ে দু’টি ম্যাচ খেলেছেন উইলিয়ামস। রয়েছে একটি গোলও।
নিজের পুরনো মাঠে জাতীয় দলের হয়ে নামার সুযোগ নিয়ে উইলিয়ামস বলেন, ‘সব দিক থেকেই এই ম্যাচটা বিশেষ হতে চলেছে। বেঙ্গালুরুতেই ভারতীয় ফুটবলে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল। তিন বছর আগে কে ভেবেছিল, একদিন এই মাঠেই ভারতের জার্সি পরে খেলব! সত্যিই দারুণ লাগছে। এটা আমার কাছে একেবারে ফুল সার্কেল মুহূর্ত।’

তিন সপ্তাহের শিবিরে বাড়তি প্রস্তুতির সুযোগ
পানামা ম্যাচের আগে ভারতের জন্য আরও একটি সুবিধা হল দীর্ঘ প্রস্তুতি শিবির। সাধারণত আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে দলগুলির হাতে প্রায় ১০ দিন সময় থাকে। কিন্তু এ বার কোচ খালিদ জামিলের অধীনে প্রায় তিন সপ্তাহ একসঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছে ভারতীয় দল।
উইলিয়ামসের মতে, এই বাড়তি সময় দলের বোঝাপড়া বাড়ানোর পাশাপাশি কোচের পরিকল্পনা মাঠে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাঁর কথায়, ‘সাধারণত ১০ দিন সময় পাওয়া যায়। এবার আমরা তিন সপ্তাহ একসঙ্গে থাকছি। একে অপরকে আরও ভালো ভাবে বোঝার, কোচের ভাবনা জানার এবং অনুশীলনে বিভিন্ন পরিকল্পনা পরীক্ষা করার জন্য এই সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
সামনে পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে
পানামার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়েই ভারতের কঠিন আন্তর্জাতিক সূচি শুরু হচ্ছে। ২৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে ম্যাচের পর ৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে ভারত। তার তিন দিন পর, ৬ অক্টোবর উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খেলবে সুনীল ছেত্রীরা।
তিন প্রতিপক্ষই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে খেলেছে। ফলে বিশ্বের শক্তিশালী ফুটবল দলগুলির বিরুদ্ধে নিজেদের পরীক্ষা করার বড় সুযোগ পেতে চলেছে ভারত। উইলিয়ামসও এই ম্যাচগুলিকে শুধু কঠিন পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন না, শেখার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন।
তিনি বলেন, ‘তিনটি ম্যাচই বিশাল পরীক্ষা হতে চলেছে। কিন্তু আমরা এমন পরীক্ষাই চাই। বড় দলগুলি কী ভাবে খেলে, তাদের কাছ থেকে কী শেখা যায়, নিজেদের কোথায় উন্নতি করতে হবে—এই ম্যাচগুলির মাধ্যমে সেগুলি বোঝার সুযোগ পাব আমরা। ভবিষ্যতে সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগাতে চাই।’

কান্তিরাভায় অন্যরকম অভ্যর্থনার অপেক্ষায়
কান্তিরাভায় বেঙ্গালুরু এফসির হয়ে দীর্ঘদিন খেলেছেন উইলিয়ামস। তাই জাতীয় দলের জার্সিতে এই মাঠে প্রথম বার নামার অনুভূতি তাঁর কাছে আলাদা। ক্লাবের সমর্থকদের পাশাপাশি ভারতের সমর্থকরাও তাঁকে উৎসাহ দেবেন বলে আশা করছেন তিনি।
উইলিয়ামস বলেন, ‘কান্তিরাভায় খেলতে আমি ভীষণ উত্তেজিত। ভারতে থাকার সময় আমার সবচেয়ে বেশি সময় এই মাঠেই কেটেছে। বেঙ্গালুরু এফসির সমর্থকদের পাশাপাশি ভারতীয় দলের সমর্থকরাও নিশ্চয়ই থাকবেন। এই মাঠেই ভারতের নীল জার্সি পরে নামতে পারা আমার কাছে সত্যিই বিশেষ মুহূর্ত।’
তিন বছর আগে যে মাঠে ভারতীয় ফুটবলে নিজের পরিচয় তৈরি করেছিলেন, সেই কান্তিরাভাতেই এ বার দেশের হয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছেন উইলিয়ামস। সামনে পানামা, ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো কঠিন প্রতিপক্ষ—তার আগে নিজের পরিচিত মাঠেই জাতীয় দলের জার্সিতে নতুন স্মৃতি তৈরির অপেক্ষায় বেঙ্গালুরু এফসির এই উইঙ্গার।
