28 C
Kolkata
September 18, 2026
রাজ্য

‘জোড়াফুল লুটের প্রতীক’, মমতাকে নতুন প্রতীকে ভোটে লড়ার চ্যালেঞ্জ দিলীপের

সংবাদ কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের টানাপোড়েনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলকে নিশানা করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। খড়গপুরে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের পুরনো প্রতীককে কটাক্ষ করার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নতুন প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি। তাঁর দাবি, দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তৃণমূলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে বিতর্কের জেরে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কোনও শিবিরই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা সংরক্ষিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পরই তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ঘাসের ওপর জোড়াফুল চিহ্নটি লুটের প্রতীক। আমরা অনেক আগেই বলেছিলাম, এই প্রতীক বন্ধ হওয়া উচিত। এটা স্রেফ সাধারণ মানুষের ধনসম্পদ লুটের প্রতীক ছাড়া আর কিছুই ছিল না।’

তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর বিবাদকে সামনে রেখে দিলীপের কটাক্ষ, ‘দুই শিবিরের টানাটানিতে অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন নিজেই ঘাসফুল উপড়ে ফেলে দিয়েছে।’ তাঁর বক্তব্যে তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ উঠে আসে।


নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, উপনির্বাচনে অংশ নিতে দুই শিবিরকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের তালিকা দিতে হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী এই ব্যবস্থা আপাতত উপনির্বাচনকে সামনে রেখেই কার্যকর থাকবে। তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নির্বাচন প্রতীক সংক্রান্ত বিধির ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে নেওয়া হবে।

শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে তিনটি করে বিকল্প নাম ও প্রতীকের পছন্দ জানাতে বলা হয়েছিল দুই পক্ষকে। মমতা শিবির এবং ঋতব্রত শিবির—দুই পক্ষই কমিশনের কাছে নিজেদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। ফলে আগামী উপনির্বাচনে পুরনো নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের বদলে পৃথক পরিচয়ে লড়তে হবে দুই গোষ্ঠীকে।

এই পরিস্থিতিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ‘হিম্মত থাকলে এবার অন্য নতুন প্রতীক নিয়ে জনগণের নির্বাচনে লড়ে দেখাক! তা হলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কার কত দম রয়েছে।’


এর পরেই তৃণমূলকে নিশানা করে দিলীপের আরও মন্তব্য, ‘তৃণমূল দলটা এখন রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নির্মূল। আগামী দিনে এই দলটাও থাকবে না, আর ঘাসও থাকবে না।’ তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের বর্তমান সিদ্ধান্তটি অন্তর্বর্তী। কমিশনের নথি অনুযায়ী, দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করায় আপাতত কোনও গোষ্ঠীকেই পুরনো নাম ও সংরক্ষিত প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত উপনির্বাচনে দুই শিবিরকে পৃথক নাম ও প্রতীকে লড়তে হবে।

Related posts

Leave a Comment