সংবাদ দিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক স্তরের হেভিওয়েট বিশ্বনেতাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ আসছে শুভেন্দু অধিকারীর সামনে। দিল্লিতে আয়োজিত দু’দিনের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে শনিবার বিকেলেই রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন তিনি। রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত হাই-প্রোফাইল নৈশভোজে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মতো রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই মেগা আয়োজনে ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচনার পর শনিবার রাতে দেশের সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সম্মান জানাতে বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

নিজের দিল্লি সফর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি দেশের জন্য অত্যন্ত বড় একটি আয়োজন। সব মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমার জন্য এটা অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। আমিও কাল উপস্থিত থাকব।’
শুধু বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, দিল্লির এই মঞ্চে দেশের অন্যান্য মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গেও প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্তরের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি রাজ্যের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে দিল্লির এই কূটনৈতিক ব্যস্ততার পাশাপাশি রাজ্যে শিল্প ও মূলধনী বিনিয়োগ টানার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন শুভেন্দু। শুক্রবারই তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর কলকাতায় আসছেন শিল্পপতি গৌতম আদানি। নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত ২,০০০ শয্যার বিশ্বমানের হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ার কথা রয়েছে ওই দিন।

অন্য দিকে, আম্বানী গোষ্ঠীর সঙ্গেও রাজ্যে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পপতি অনন্ত আম্বানীর সঙ্গে সম্প্রতি ফোনে ইতিবাচক কথাবার্তার পর শুভেন্দু জানান, চলতি গণপতি উৎসব শেষ হলে তিনি মুম্বাই সফরে যাবেন। সেখানে মুকেশ আম্বানী ও অনন্ত আম্বানীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করে বাংলায় নতুন শিল্প প্রকল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
এক দিকে ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একই আসরে উপস্থিতি, অন্য দিকে রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের জন্য একের পর এক বৈঠক—দিল্লি সফরকে ঘিরে তাই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক, দুই দিকেই নজর থাকছে শুভেন্দু অধিকারীর দিকে।
