28 C
Kolkata
September 11, 2026
খেলা

সাবালেঙ্কার দাপটে পেগুলা বিদায়, রিবাকিনার কাছে হেরে কাঁদলেন গফ

সংবাদ নিউইয়র্ক— ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে দুই মার্কিন তারকার বিদায় হল দুই ভিন্ন গল্পে। জেসিকা পেগুলাকে একতরফা লড়াইয়ে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আরিনা সাবালেঙ্কা। অন্যদিকে প্রথম সেট জিতেও এলেনা রিবাকিনার কাছে তিন সেটের লড়াইয়ে হারতে হয়েছে কোকো গফকে। ফলে ইউএস ওপেনের শিরোপার লড়াই এখন সাবালেঙ্কা বনাম রিবাকিনা।

পেগুলাকে ৭-৫, ৬-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যান সাবালেঙ্কা। ম্যাচে শুরু থেকেই তাঁর সার্ভ, রিটার্ন এবং বেসলাইন গেমের সামনে কার্যত কোনও ছন্দ খুঁজে পাননি মার্কিন তারকা। পেগুলার মতে, চলতি মরসুমে সাবালেঙ্কার এটাই সম্ভবত সেরা পারফরম্যান্স।

ম্যাচের পর পেগুলা বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটাই সম্ভবত এ বছর ওর খেলা সেরা ম্যাচ। ওর লেভেল অবিশ্বাস্য রকমের উঁচু ছিল।’

সাবালেঙ্কার এমন আগ্রাসী পারফরম্যান্স দেখে রসিকতাও করেছেন পেগুলা। তাঁর প্রশ্ন, ম্যাচের আগে কে সাবালেঙ্কাকে এতটা তাতিয়ে দিয়েছিল! পেগুলা বলেন, ‘আমি জানি না আজ কে ওকে এতটা রাগিয়ে দিয়েছিল। আশা করি সেটা আমি নই। যদিও হতে পারে! ও অসাধারণ খেলেছে।’


পেগুলার দাবি, নিজের খেলায় বড় কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলিতে সাবালেঙ্কার উচ্চমানের টেনিসের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমি খারাপ খেলিনি। এর আগে ওর বিরুদ্ধে হয়তো আরও খারাপ খেলেছি। কিন্তু আজ ওর লেভেলটাই ছিল সবচেয়ে উঁচু।’

সাবালেঙ্কা শুরু থেকেই পেগুলাকে নিজের ছন্দে খেলতে দেননি। দ্রুত সার্ভ, শক্তিশালী রিটার্ন এবং পরের বলেই আক্রমণ—এই কৌশলে মার্কিন তারকাকে চাপে রাখেন তিনি। পেগুলার মতে, প্রতিপক্ষকে র‌্যালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়াই সাবালেঙ্কার বড় শক্তি।

অন্য সেমিফাইনালে অবশ্য অন্য রকম নাটক দেখা যায়। এলেনা রিবাকিনার বিরুদ্ধে প্রথম সেট ৬-৩ ব্যবধানে জিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন কোকো গফ। কিন্তু এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজের হাতে তুলে নেন কাজাখ তারকা। শেষ পর্যন্ত ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন রিবাকিনা। ম্যাচটি শেষ করতে তাঁর সময় লাগে ২ ঘণ্টা ৮ মিনিট।

হারার পর গফের গলায় ছিল হতাশা। ২১ বছরের মার্কিন তারকা বলেন, ‘এই মুহূর্তে খুব খারাপ লাগছে।’ বাবার কাছ থেকে চলতি গ্রীষ্মে তাঁর সাফল্যের কথা শুনেও সেই মুহূর্তে কোনও সান্ত্বনা পাচ্ছিলেন না তিনি। গফ বলেন, ‘আমার বাবা এসে বলেছিলেন, এই গ্রীষ্মে তুমি অনেক কিছু অর্জন করেছ। আমি বলেছি, গ্রীষ্ম নিয়ে এখন আমার কিছু যায় আসে না।’


তবে হতাশার মধ্যেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী গফ। তাঁর লক্ষ্য, নিয়মিত বড় টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে নিজেকে ট্রফি জয়ের সুযোগ করে দেওয়া। তাঁর কথায়, ‘আমি ধারাবাহিক খেলোয়াড় হতে চাই এবং যত বেশি সম্ভব বার ট্রফি জেতার সুযোগ তৈরি করতে চাই।’

ইউএস ওপেন তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্বের বলেও জানিয়েছেন গফ। তিনি বলেন, ‘এটা খুব কষ্টের। সবকিছুই ভাল, কিন্তু প্রতিযোগী হিসেবে মনে হয়, এই টুর্নামেন্টেই আমি সেরা পারফরম্যান্স করতে চাই। আমি ভাল খেলেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে জয় নিয়েই বেরোতে চেয়েছিলাম।’

পরাজয়কে শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করার কথাও জানিয়েছেন গফ। আগামী এক-দু’বছর আরও পরিশ্রম করে নিজের খেলাকে কোথায় নিয়ে যেতে পারেন, সেটাই এখন তাঁর লক্ষ্য। ২৪ বা ২৫ বছর বয়সে নিজের টেনিস কোন জায়গায় পৌঁছয়, তা দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে পেগুলার বিদায়ের পর সাবালেঙ্কার প্রশংসাই শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। এমনকি বার্লিনে এর আগে সাবালেঙ্কাকে হারানোর কথাও মজার ছলে উল্লেখ করেন তিনি। সেই ম্যাচের তৃতীয় সেটে পেগুলা ৬-০ ব্যবধানে জিতেছিলেন। তাঁর রসিকতা, হয়তো সেই হারের প্রতিশোধ নিতেই এ দিন সাবালেঙ্কা এতটা তেতে ছিলেন।

দুই মার্কিন তারকার বিদায়ের পর ইউএস ওপেনের মহিলা সিঙ্গলসের শিরোপা এখন সাবালেঙ্কা ও রিবাকিনার মধ্যে। টানা তৃতীয় ইউএস ওপেন খেতাব জয়ের লক্ষ্য নিয়ে কোর্টে নামবেন সাবালেঙ্কা। অন্যদিকে রিবাকিনার সামনে প্রথম ইউএস ওপেন ট্রফি জয়ের পাশাপাশি বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে ওঠার সুযোগও রয়েছে।

Related posts

Leave a Comment