28 C
Kolkata
September 11, 2026
রাজ্য

পাঁচ দিনের কর্মদিবসের দাবিতে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, আসানসোলে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক

নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান— সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক খোলা রাখার দাবিতে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (UFBU)-এর ডাকা সারা ভারত ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ব্যাপক প্রভাব পড়ল আসানসোল শিল্পাঞ্চলে। শুক্রবার শিল্পাঞ্চলের প্রায় সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখা বন্ধ ছিল। বন্ধ রাখা হয় এটিএম পরিষেবাও। ফলে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা না পেয়ে সমস্যায় পড়েন বহু গ্রাহক।

আসানসোলের এসবিআই মেন ব্রাঞ্চও শুক্রবার বন্ধ রাখা হয়। তবে শুধু পরিষেবা বন্ধ রেখেই ক্ষান্ত থাকেননি ব্যাঙ্ক কর্মীরা। শাখার বাইরে সংগঠনের সদস্যরা বিক্ষোভ দেখান এবং বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। ধর্মঘটের সমর্থনে আন্দোলনে যোগ দেন একাধিক ব্যাঙ্ক কর্মচারী সংগঠনের সদস্যরা।

ব্যাঙ্ক কর্মীদের মূল দাবি, প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও রবিবার—অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ দু’দিন সাপ্তাহিক ছুটি দিতে হবে। বর্তমানে মাসের নির্দিষ্ট কয়েকটি শনিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকলেও বাকি শনিবারগুলিতে কাজ করতে হয় কর্মীদের। দীর্ঘদিন ধরেই পাঁচ দিনের কর্মদিবস চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা।


পাঁচ দিনের কর্মদিবসের পাশাপাশি পারফরম্যান্স লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) প্রকল্পের পর্যালোচনা, পেনশন আপডেট-সহ একাধিক অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত সমাধানের দাবিও তুলেছে ব্যাঙ্ক কর্মচারী সংগঠনগুলি।

আন্দোলনকারীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন আর্থিক ও বিমা পরিষেবা ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই পাঁচ দিনের কর্মদিবস চালু রয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-তেও সপ্তাহে পাঁচ দিনের কাজের ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মীদের এখনও মাসের দু’টি শনিবার কাজ করতে হয়। কোনও কোনও মাসে ছ’দিনের কর্মদিবস তিন সপ্তাহেও পড়ে বলে দাবি তাঁদের।

ব্যাঙ্ক কর্মী কৌস্তভ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা বহুদিন ধরে দাবি করছি যে সপ্তাহে পাঁচ দিন কর্মদিবস করা হোক। সরকারের কাছ থেকে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি মিললেও এখনও পর্যন্ত পাঁচ দিনের কর্মদিবস চালু হয়নি। প্রতি মাসে দু’টি সপ্তাহে আমাদের ছ’দিন করে কাজ করতে হয়। কোনও কোনও মাসে তিনটি সপ্তাহেও এমনটা হয়। এটাই আমাদের মূল দাবি। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটব।’

আরেক ব্যাঙ্ক কর্মী সুজয় কুমার সরকার বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় পাঁচ দিনের কর্মদিবস চালু রয়েছে। আমাদের দেশেও বিমা ক্ষেত্র এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কে পাঁচ দিনের কর্মদিবস রয়েছে। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মীদের মাসে দু’টি শনিবার কাজ করতে হচ্ছে। এই দাবি নিয়েই আমরা আন্দোলন করছি।’

শুক্রবারের ধর্মঘটের পর শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় শনিবার এবং ১৩ সেপ্টেম্বর রবিবার হওয়ায় ব্যাঙ্কের নিয়মিত ছুটি রয়েছে। এর ফলে একাধিক জায়গায় টানা কয়েক দিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কয়েকটি রাজ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর গণেশ চতুর্থীর ছুটি থাকায় সেখানেও ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে।


ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির তরফে জানানো হয়েছে, পাঁচ দিনের কর্মদিবস-সহ অন্যান্য দাবি দ্রুত মেনে নেওয়া না হলে আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘটের পথে হাঁটবেন তাঁরা। তারপরও সমস্যার সমাধান না হলে ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশব্যাপী ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনগুলি।

শুক্রবারের ধর্মঘটে আসানসোলে ব্যাঙ্ক পরিষেবা কার্যত থমকে যাওয়ায় গ্রাহকদের একাংশকে ফিরে যেতে হয়। শিল্পাঞ্চলের একাধিক ব্যাঙ্কের শাখা ও এটিএম বন্ধ থাকায় জরুরি ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নিয়েও ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন আরও জোরদার করার বার্তা দিয়েছেন ধর্মঘটকারীরা।

Related posts

Leave a Comment