28 C
Kolkata
September 11, 2026
খেলা

শেফালি-ঝড়ে উড়ে গেল বাংলাদেশ, টানা দশম বার এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারত

দুবাই— শুরুটা খুব একটা স্বস্তির ছিল না। স্মৃতি মন্ধানা দ্রুত ফিরে গেলেও মাঝের ওভারে শেফালি বর্মার বিধ্বংসী ব্যাটিং ম্যাচের রং বদলে দিল। পরে বল হাতে দীপ্তি শর্মার ঘূর্ণির সামনে দাঁড়াতেই পারল না বাংলাদেশ। শেফালির ৬৪ রান এবং দীপ্তির তিন উইকেটের দাপটে বাংলাদেশকে ৪০ রানে হারিয়ে মহিলা এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে গেল ভারত।

এশিয়া কাপের ইতিহাসে এই নিয়ে টানা দশম বার ফাইনালে পৌঁছল ভারত। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে যে দল জিতবে, রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হবে হরমনপ্রীত কৌরের দল। গত বার ফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে ট্রফি হাতছাড়া হয়েছিল ভারতের। এ বার সেই আক্ষেপ মেটানোর সুযোগ সামনে।

টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। শুরুতেই মাত্র ২ রানে ফিরে যান স্মৃতি মন্ধানা। তবে দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিকা রাওয়ালকে সঙ্গে নিয়ে ৫০ রান যোগ করে দলকে সামলে দেন শেফালি। প্রতিকা ২৪ বলে ২০ রান করে ফেরার পরেই শুরু হয় শেফালি-ঝড়।

মাত্র ৩৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন শেফালি। টি-টোয়েন্টিতে এটি তাঁর ২০তম হাফ সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে ৬৪ রান করে আউট হন তিনি। ইনিংসে ছিল সাতটি চার এবং তিনটি ছক্কা। তবে শেফালির ইনিংসে বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ের অবদানও কম ছিল না। তাঁর তিনটি ক্যাচ পড়ে, এমনকি সহজ রান-আউটের সুযোগও নষ্ট হয়। সেই সুযোগের পুরো ফায়দা তুলে ভারতকে বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে দেন শেফালি।


ম্যাচের পর শেফালি বলেন, ‘ওখানে আর্দ্রতা বেশি ছিল। তাই নিজেকে একটু বেশি শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলাম। শুধু সুযোগ নেওয়া এবং ইনিংসটা গড়ে তোলাই লক্ষ্য ছিল। আমি সুযোগ পেয়েছি, সেটাকে কাজে লাগিয়েছি। প্রথম ছ’ওভারে আমরা যত বেশি সম্ভব রান করার চেষ্টা করছিলাম। পাওয়ারপ্লেতে ছক্কা মারাটা আমার কাজ। আমি সেটাই উপভোগ করছিলাম।’

ফালি ফিরে যাওয়ার পরে ইনিংসের হাল ধরেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত। শুরুতে বেশ ধীর গতিতে খেলছিলেন তিনি। প্রথম ১৮ বলে করেছিলেন মাত্র ৬ রান। শেষ দিকে অবশ্য হাত খুলে খেলেন। পরের ১০ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন ২৮ বলে ২৪ রানে। ঋচা ঘোষ ১৬ বলে ২১ এবং দীপ্তি শর্মা মাত্র ছয় বলে ১৩ রান করেন। শেষ পাঁচ ওভারে ৫৩ রান তুলে ভারত ২০ ওভারে ১৪৯/৬-এ পৌঁছে যায়।

ভারতীয় অধিনায়ক হরমনপ্রীতের মতে, দুবাইয়ের উইকেটে স্পিনাররাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভাল বলের মূল্য থাকে। বল ঘুরিয়ে করতে পারলে সেই বলের আলাদা গুরুত্ব ছিল। দুই দলের স্পিনাররাই খুব ভাল বল করেছে। ব্যাটারেরা রান করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। কিন্তু এই উইকেটে স্পিনারদের জন্য অনেক কিছু ছিল এবং ওরা সেই সুবিধাটা খুব ভাল ভাবে কাজে লাগিয়েছে।’


১৪৯ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য খারাপ ছিল না। পাওয়ারপ্লেতে ২৬ রান তুলে ফেলেছিল তারা। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে ভারতের হাতে চলে যায়। জুইরিয়া ফেরদৌসকে ১৪ রানে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি ভাঙেন শ্রীচারণী।

এর পর বল হাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দীপ্তি শর্মা। বাংলাদেশের পরের চার উইকেটের তিনটিই তুলে নেন তিনি। ভারতীয় স্পিনের সামনে বাংলাদেশের কোনও ব্যাটারই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষ দিকে কয়েকটি বাউন্ডারি এলেও ততক্ষণে প্রয়োজনীয় রানরেট অনেকটাই নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল।

শেষ ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নেন নন্দিনী শর্মা। তাঁর শিকার রবিয়া খান হিট উইকেটও হন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১০৯/৭-এ থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। দীপ্তি ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন তিন উইকেট।

ফিল্ডিংয়ে একাধিক সুযোগ নষ্ট করা এবং রান তাড়ায় ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হতাশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা। অন্য দিকে, শেফালির ঝোড়ো ব্যাটিং এবং দীপ্তির ঘূর্ণিই ভারতের ফাইনালে ওঠার রাস্তা তৈরি করে দিল। দুবাইয়ের সেমিফাইনালে ৪০ রানের জয়ে টানা দশম বার এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত।

Related posts

Leave a Comment