দাম্পত্য বিবাদ মেটাতে মধ্যস্থতার পথে হাঁটল সুপ্রিম কোর্ট। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মামলাটি মধ্যস্থতায় পাঠিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম.আর. শাহকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি আর. মহাদেবন এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চে মামলার শুনানির সময় উভয় পক্ষের আইনজীবীরা সম্মত হন যে, বিচারিক প্রক্রিয়ার আগে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। সেই প্রেক্ষিতেই আদালত মধ্যস্থতার নির্দেশ দেয়।
আদালত জানিয়েছে, বিচারপতি এম.আর. শাহ উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার সময়সূচি, মধ্যস্থতার শর্ত এবং পারিশ্রমিক নির্ধারণ করবেন। তাঁর পারিশ্রমিক স্বামী ও স্ত্রী সমানভাবে বহন করবেন। মধ্যস্থতার রিপোর্ট জমা না পড়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতে চলা মামলার কার্যক্রমও স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই মামলা সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায় গুজরাত হাই কোর্টের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করে। স্ত্রী অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, প্রমাণ জালিয়াতি করেছেন এবং আয় ও সম্পত্তির তথ্য গোপন করেছেন, যার প্রভাব পড়েছে তাঁর এবং তাঁদের সাত বছরের সন্তানের ভরণপোষণের দাবিতে।
স্ত্রীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতে দাবি করেন, এই অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত বিলম্বিত হলে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হবে এবং অভিযুক্ত স্বামী কার্যত সুবিধা পেয়ে যাবেন।
অন্যদিকে, স্বামীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে যুক্তি দেন, পারিবারিক আদালত যথাযথ বিচারবিবেচনা করেই আবেদনটির শুনানি চূড়ান্ত পর্যায়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে গুজরাত হাই কোর্টও স্ত্রীর আবেদন খারিজ করে জানিয়েছিল, পারিবারিক আদালত আবেদন বাতিল করেনি, শুধুমাত্র চূড়ান্ত শুনানির সময় বিষয়টি বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে হাই কোর্ট জানায়, মিথ্যা প্রমাণের অভিযোগে অবিলম্বে প্রাথমিক তদন্তের কোনও বাধ্যবাধকতা আইনে নেই।
