কলকাতা, ৬ জুন ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নে ১ লক্ষ কোটিরও বেশি বিনিয়োগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব-এর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক রেল প্রকল্প এবার নতুন গতি পাবে এবং রাজ্যের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক জোটের সরকার থাকায় উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প দীর্ঘদিন আটকে ছিল, যার ফলে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিচ্ছে।
বৈঠকে মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল জানান, চিংড়িহাটা উড়ালপুলের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শিবক–রংপো রেললাইন প্রকল্পের জন্য বনসৃজনের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ একর জমিও বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া ৭০টিরও বেশি রেল ওভারব্রিজ এবং আন্ডারপাস নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যে ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশনের আধুনিকীকরণ এবং ৫৩৮টি উড়ালপুল ও আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে কেন্দ্র ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের জন্য রেল খাতে ১৮,২০৫ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও পর্যাপ্ত রেল সংযোগ না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, ঝাড়গ্রাম, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং সুন্দরবনের মতো অঞ্চলে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সংযোগ বৃদ্ধি করা হবে। এর ফলে বহু মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও প্রসারিত হবে।
অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রেল প্রকল্পগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে ১০টি অমৃত ভারত স্টেশন, ৯টি বন্দে ভারত ট্রেন এবং একাধিক অমৃত ভারত ট্রেন পরিষেবা চালু রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ৬০টি নতুন প্রজন্মের মেট্রো ট্রেন চালুর কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
এছাড়া দিল্লি–লখনউ–পাটনা–শিলিগুড়ি বুলেট ট্রেন করিডর এবং ডানকুনি থেকে শুরু হওয়া পূর্ব-পশ্চিম ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের কথাও উল্লেখ করেন রেলমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই প্রকল্পগুলি পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি, শিল্প ও পরিবহণ ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
বৈঠকের শেষে রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি রেল পরিকাঠামোকে ঘিরে শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং কলকাতা-হাওড়ার নগর পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়েও কেন্দ্রের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
