হুগলি | ১৮ জুন: ‘বিকশিত ভারত, বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগামী ২০ জুন হুগলি জেলার তারকেশ্বরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস ও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, মৎস্যচাষ ও রেল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কৃষকদের জন্য একাধিক নতুন উদ্যোগেরও ঘোষণা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী এদিন প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN)-এর ২৩তম কিস্তির অর্থ প্রকাশ করবেন। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে ৯.৪৪ কোটিরও বেশি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রায় ১৮,৮৮০ কোটি টাকা পাঠানো হবে ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের (DBT) মাধ্যমে।
কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের ৪৫.৩৫ লক্ষেরও বেশি কৃষক এই কিস্তির আওতায় প্রায় ৯০৭ কোটি টাকা পাবেন। এর ফলে রাজ্যে PM-KISAN প্রকল্পে মোট বিতরণ ১৫,০৫৫ কোটি টাকারও বেশি হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা (PMFBY) এবং পুনর্গঠিত ওয়েদার বেসড ক্রপ ইন্স্যুরেন্স স্কিম (RWBCIS)-এরও সূচনা করবেন। প্রায় ১২,২০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১.১০ কোটি কৃষক এবং ৩০ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমিকে বীমা সুরক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ডিজিটাল অ্যাগ্রিকালচার মিশন-এর অধীনে পশ্চিমবঙ্গে অ্যাগ্রিটেক প্ল্যাটফর্ম চালু করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সার বিতরণ, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, সরকারি ভর্তুকি, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (MSP) ফসল ক্রয়-সহ একাধিক পরিষেবা এক ছাতার তলায় পাওয়া যাবে।
প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল মিশন অন ন্যাচারাল ফার্মিং-এরও সূচনা করবেন। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে ১৭,৩০০ হেক্টর জমিতে ৩৪৬টি প্রাকৃতিক কৃষি ক্লাস্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে প্রায় ৪৩,২৫০ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনা চালু হবে পুরুলিয়া, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার এবং ঝাড়গ্রাম জেলায়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, ফসল বৈচিত্র্যকরণ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, “পূর্ব ভারতের কৃষি, পরিকাঠামো ও শিল্পোন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ২০ জুনের কর্মসূচি সেই লক্ষ্যপূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
