সংবাদ কলকাতা: আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত জটিলতায় বড় পদক্ষেপ করল মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ক্লাবের দাবি, বকেয়া আর্থিক দায় পরিশোধের জন্য দেওয়া ৫০ লক্ষ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকার দুটি চেক বাউন্স হওয়ার ঘটনায় হুমায়ুন কবিরকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। চেক দু’টি পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে অনাদায়ী হয়ে ফেরত এসেছে বলে দাবি করেছে ক্লাব। এই ঘটনায় ভারতীয় নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইন, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
ক্লাবের তরফে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী ফৈজান মহম্মদ জাফরের মাধ্যমে দুটি পৃথক আইনগত নোটিস পাঠানো হয়েছে। ক্লাবের দাবি, হুমায়ুন কবিরের বকেয়া আর্থিক দায় এবং আইনত প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের উদ্দেশ্যেই এই চেক দু’টি দেওয়া হয়েছিল।
প্রথম চেকটির নম্বর ১২৭০০১। ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইস্যু করা এই চেকের পরিমাণ ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। এটি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের সালার শাখার স্টেট ব্যাঙ্ক থেকে ইস্যু করা হয়েছিল। মহমেডান স্পোর্টিং তাদের ব্যাঙ্ক, কলকাতার রুবি মোড় শাখার এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ২০ জুলাই চেকটি জমা দেয়। পরের দিন, ২১ জুলাই, ব্যাঙ্ক ‘পর্যাপ্ত অর্থ নেই’ উল্লেখ করে চেকটি ফেরত দেয় বলে ক্লাবের দাবি।
দ্বিতীয় চেকটির নম্বর ১২৭০০২। ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইস্যু করা এই চেকের অঙ্কও ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। একই ব্যাঙ্ক শাখা থেকে ইস্যু হওয়া এই চেকও ২০ জুলাই জমা দেওয়া হয় এবং ২১ জুলাই ‘পর্যাপ্ত অর্থ নেই’ কারণ দেখিয়ে অনাদায়ী অবস্থায় ফেরত আসে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
মহমেডান স্পোর্টিংয়ের দাবি, একই সঙ্গে দুটি উচ্চমূল্যের চেক পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে অনাদায়ী হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে চেক ইস্যুর সময় থেকেই অর্থ পরিশোধের সদিচ্ছার অভাব ছিল। সেই কারণেই নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইন, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় এটি দণ্ডনীয় অপরাধ বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ আদালতে এখনও প্রমাণিত হয়নি এবং বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
আইনি নোটিসে হুমায়ুন কবিরকে নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না হলে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইন, ১৮৮১-এর ১৩৮ এবং ১৪২ ধারায় উপযুক্ত আদালতে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে ক্লাব।
একই সঙ্গে মহমেডান স্পোর্টিং স্পষ্ট করেছে, বকেয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও সমস্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার তারা সংরক্ষণ করছে।
