31.5 C
Kolkata
June 18, 2026
রাজ্য

বিরোধী দলনেতা বিতর্কে আজ রায়, তৃণমূলের দাবি ঘিরে নজর কলকাতা হাই কোর্টে

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

সংবাদ কলকাতা: রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের অধীনে বিধানসভার নতুন অধিবেশন শুরুর ঠিক আগের দিন বিরোধী দলনেতা নিয়োগ বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার রায় বৃহস্পতিবার ঘোষণা করবে কলকাতা হাই কোর্ট।

গত কয়েকদিন ধরে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি চলে। বুধবার শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রাখা হয়। আদালত জানিয়ে দেয়, বৃহস্পতিবার সকালে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

মামলার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ মে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, দলের ৮০ জন বিধায়কের সমর্থনে প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও তাঁকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

এই সিদ্ধান্তের কারণ জানতে তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় আবেদনও করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন।

শুনানিতে শোভনদেবের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্তি দেন, বিরোধী দলনেতা কে হবেন তা নির্ধারণ করার অধিকার রাজনৈতিক দলের। তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোন গোষ্ঠীর কাছে রয়েছে, তা নির্ধারণ করা অধ্যক্ষের কাজ নয়। রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে বিধানসভার অধ্যক্ষের পক্ষে আদালতে জানানো হয়, ১৩ মে পাওয়া চিঠিতে বিধায়কদের বৈঠক এবং প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার বিষয়ে কিছু অসঙ্গতি ছিল। পাশাপাশি দুই বিধায়ক তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে অপেক্ষা করা হয়েছিল।

অধ্যক্ষের পক্ষে আরও জানানো হয়, ৩ জুন ৮০ জন বিরোধী বিধায়কের মধ্যে ৫৬ জন সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিরোধী দলনেতা ও চিফ হুইপ নিয়োগের বিষয়ে মত জানান। সেই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও একাধিকবার জানতে চান, ১৩ মে প্রথম প্রস্তাব পাওয়ার পরও কেন ৩ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়েছিল এবং প্রথম প্রস্তাবটিকে কেন গ্রহণ করা হয়নি।

অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার পক্ষে আইনজীবী জয়দীপ কর দাবি করেন, অধ্যক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মতে, স্পিকারের অনুসন্ধান করার ক্ষমতা রয়েছে এবং সেই ক্ষমতার ভিত্তিতেই তিনি পদক্ষেপ করেছেন।

বৃহস্পতিবারের রায় শুধু বিরোধী দলনেতা পদের ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না, বিধানসভার সাংবিধানিক রীতি ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related posts

Leave a Comment