সংবাদ কলকাতা: রেলের জমিতে কথিত দখলদারি উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ২৫টি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনও উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না। পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষকে জমির মালিকানা এবং উচ্ছেদ নোটিস জারির ভিত্তি সম্পর্কেও আদালতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।
আদালতের এই নির্দেশে আপাতত স্বস্তি পেলেন বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর, ডানকুনি, গুমা, বনগাঁ, বিরাটি, দুর্গানগর, মথুরাপুর এবং যাদবপুর-সহ একাধিক এলাকার দোকানদার ও বাসিন্দারা। এই সমস্ত এলাকায় রেলের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ নোটিস জারি করা হয়েছিল, যার বৈধতা নিয়ে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়।
বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণে বলেন, সংশ্লিষ্ট জমিগুলির প্রকৃত মালিকানা এবং অবস্থান প্রথমে সরেজমিনে যাচাই করতে হবে। রেল কর্তৃপক্ষকে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনও ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না।
মামলাকারীদের দাবি, যেসব এলাকায় উচ্ছেদ নোটিস দেওয়া হয়েছে, তার সব জমিই রেলের মালিকানাধীন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা বা অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত জমির মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আদালত আরও জানিয়েছে, যাঁরা অতীতে রেলের অনুমতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যবসা বা অন্য কাজ করতেন, তাঁদের অবস্থান সম্পর্কেও পৃথক রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া রেল স্টেশনে রেলের জমিতে থাকা কথিত বেআইনি দোকান উচ্ছেদে বুলডোজার অভিযান চালানো হয়েছিল। রেল কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই ১৫ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছিল দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
এর আগে হাওড়া, শিয়ালদহ, যাদবপুর এবং দমদম স্টেশন এলাকাতেও একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে বহু দোকানদার অভিযোগ করেন, তাঁদের জীবিকা এক ধাক্কায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে এবং পর্যাপ্ত সুযোগ না দিয়েই উচ্ছেদ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এলাকার হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ, মিছিল এবং আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নেন। শেষ পর্যন্ত ২৫টি পৃথক মামলা একত্রিত করে হাই কোর্টে শুনানি হয়। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিতাদেশ জারি থাকায় আপাতত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ থাকলেও, পরবর্তী শুনানিতে রেলের রিপোর্টের উপরই মামলার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে।
