July 7, 2026
রাজ্য

তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা, আহতদের পাশে রাজ্য, চাকরি ও বিনামূল্যে চিকিৎসার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা— তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নিহতদের পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক এবং আহতদের হাতে ১ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, নিহতদের পরিবারের একজনকে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থা, আহতদের সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ এবং ভবিষ্যতে মাসিক আর্থিক সহায়তার বিষয়েও আশ্বাস দেন তিনি।

গত ২৪ জুন দুপুরে তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গুদাম আচমকা ধসে পড়ে। সেই সময় সেখানে নির্মাণকাজ চলায় বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ অভিযানের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একাধিক শ্রমিককে উদ্ধার করা হলেও সরকারি হিসেবে ১৬ জনের মৃত্যু হয়। বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় এক মৃত শ্রমিকের স্ত্রী চাকরির আবেদন জানান। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডেকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, নিহতদের পরিবারের যোগ্য সদস্যদের জন্য কোথায় কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে তা দ্রুত খতিয়ে দেখতে হবে। আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে চাকরির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নিহতদের পরিবারকে নিয়মিত মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও সরকার ইতিবাচকভাবে ভাবছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের সন্তানদের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাজ্য সরকার নেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

আহতদের চিকিৎসা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় আহত প্রত্যেক শ্রমিক সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরকে নির্দেশও দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনও পরিবারকে একা ফেলে রাখা হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। পুনর্বাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

Related posts

Leave a Comment