সংবাদ কলকাতা: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নতুন জটিলতা তৈরি হল। মঙ্গলবার মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও ব্যক্তিগত কারণে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত সেই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে শীর্ষ আদালতে এখনও আগাম জামিন নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। মামলাটি নতুন বেঞ্চে পাঠানো হবে। পরবর্তী শুনানির সম্ভাব্য দিন ধার্য হয়েছে ২ নভেম্বর।
ইন্দ্রনীলের আগাম জামিনের আবেদন এর আগে খারিজ করে দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রাক্তন মন্ত্রী। মঙ্গলবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। কিন্তু বিচারপতি দত্ত নিজেকে সরিয়ে নেওয়ায় শুনানি এগোয়নি। এখন নিয়ম অনুযায়ী মামলাটি নতুন বেঞ্চে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
কী অভিযোগ ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে?
দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশপত্র বিক্রির নামে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইন্দ্রনীলের নাম জড়িয়েছে। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে পুজোর বিশেষ পাস ও টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। এই ঘটনায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতার বৌবাজার থানায় এফআইআর দায়ের হয়। পরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডিও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে।

তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো আয়োজন ও পাস বিক্রির সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম হয়েছে। তবে এই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
এই ঘটনায় ইডি ইন্দ্রনীলকে দু’বার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছিল। তার আগে তাঁর কসবার বাড়ি এবং হুগলির সিঙ্গুরে বাগানবাড়ি-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয় বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তের আওতায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং আর্থিক লেনদেনের নথিও।
হাই কোর্টে ধাক্কার পর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন
আগাম জামিন চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন ইন্দ্রনীল। কিন্তু ১৫ অক্টোবর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থেকে সুরক্ষা চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।
তবে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি দত্তের সরে দাঁড়ানোর কারণে এ দিন মামলার মূল বিষয়বস্তু নিয়ে শুনানি হয়নি। আগাম জামিন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনও নির্দেশও আসেনি। নতুন বেঞ্চে মামলাটি উঠলে তবেই ইন্দ্রনীলের আবেদনের শুনানি এগোতে পারবে।
দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে তদন্তের পাশাপাশি এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ২ নভেম্বরের সম্ভাব্য শুনানিতে ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, তা-ই দেখার।
