30 C
Kolkata
October 27, 2026
রাজ্য

বাগুইআটিতে নাবালিকাকে নির্যাতন, ভিডিয়ো নিয়ে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা— বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিপদের মুখে পড়ার অভিযোগ উঠল ১৩ বছরের এক স্কুলছাত্রীর। পরিবারের অভিযোগ, বিরাটি থেকে তাকে ব্যান্ডেলের একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে মাদক মেশানো পানীয় খাইয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়। সেই ঘটনার ভিডিয়ো দেখিয়ে পরে পরিবারের কাছে টাকা চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। মঙ্গলবার বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নাবালিকার মা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করার খবর পাওয়া যায়নি।

পরিবারের বক্তব্য, গত শনিবার দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল মেয়েটি। এক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে সে বেরিয়েছিল বলে জানিয়েছেন তার মা। সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে আসার কথা থাকলেও সময় পেরিয়ে যায়। মায়ের ফোনে প্রথমে মেয়েটি জানায়, সে বন্ধুর সঙ্গে ব্যারাকপুরে রয়েছে এবং বাড়ি ফিরতে দেরি হবে। পরে ফের ফোন করা হলে আর সাড়া মেলেনি বলে পরিবারের দাবি।

এর পর একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে নাবালিকার মায়ের কাছে। ফোনে এক ব্যক্তি জানান, রাস্তায় মেয়েটিকে কাঁদতে দেখে তিনি নিজের কাছে নিয়ে গিয়েছেন এবং তাঁকে মোবাইল ব্যবহার করতে দিয়েছেন। কিছুক্ষণ কথা বলার পর ফোন কেটে যায়। রাত আরও বাড়লেও মেয়ের খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে পরিবারের।

রাত ১২টা ৬ মিনিট নাগাদ মেয়ের কাছ থেকে একটি বার্তা পান মা। তাতে সে বিপদে পড়েছে বলে জানায় এবং এক পরিচিতের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা লেখে বলে পরিবারের দাবি। এর কিছুক্ষণ পরে দেবজিৎ সরকার নামে এক ব্যক্তি ফোন করে মেয়েটি নিরাপদে রয়েছে এবং গাড়িতে করে বাড়ি ফিরবে বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু সে রাতে বাড়ি ফেরেনি নাবালিকা।


রবিবার সকালে বাড়ি ফেরার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল মেয়েটি বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যেরা। মায়ের কাছে সে অভিযোগ করে, পরিচিতের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে একটি পানীয় দেওয়া হয়েছিল। সেটি খাওয়ার পরে সে ঝিমিয়ে পড়ে। সেই সুযোগে একাধিক ব্যক্তি তার উপর যৌন নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। জোর করে ওষুধ খাওয়ানোর কথাও পরিবারকে জানিয়েছে সে।

নির্যাতনের ভিডিয়ো পাঠিয়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগ নাবালিকার মায়ের অভিযোগ, যৌন নির্যাতনের দৃশ্য রেকর্ড করা হয়েছিল। পরে সেই ভিডিয়ো পাঠিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হচ্ছে এবং টাকা দাবি করা হচ্ছে। মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে ভয় পাচ্ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।

অভিযোগপত্রে মেয়ের বান্ধবী-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন মা। তাঁর দাবি, মেয়েকে বাড়ি থেকে দূরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে সেই ঘটনার ভিডিয়োকে হাতিয়ার করে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে। তবে অভিযোগে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

তদন্তে নেমেছে পুলিশ

এ ধরনের ঘটনায় নাবালিকার নিরাপত্তা ও শারীরিক-মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি। তদন্তের পাশাপাশি তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। আপাতত পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই অনুসন্ধান চলছে; অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যায় না।

এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন এবং সেই ঘটনার ভিডিয়ো ব্যবহার করে পরিবারকে ভয় দেখানোর অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়াই এখন পুলিশের সামনে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

Related posts

Leave a Comment