নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা— গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করলেন তাঁর ভাই ধ্রুব দাস। তাঁর দাবি, নির্যাতিত কিশোরী ও তাঁর দাদা পূর্বপরিচিত ছিলেন। দূর সম্পর্কের আত্মীয় হওয়ার পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতাও ছিল বলে দাবি ধ্রুবের। কিশোরী মাঝেমধ্যে প্রহ্লাদের দোকানে যেত। সেখানে দু’জনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে দাদা এমন অপরাধ করতে পারেন, তা বিশ্বাস করতে পারছেন না বলে দাবি করেছেন ধ্রুব। পুলিশের গুলিতে দাদার মৃত্যুর খবর শুনেও হতবাক তিনি।
রবিবার সকালে গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর কিশোরীর দূর সম্পর্কের আত্মীয় প্রহ্লাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কিশোরীকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছিলেন অভিযুক্ত। তাতে রাজি না হওয়ায় তার উপর আক্রমণ করা হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। তবে ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি ও অভিযুক্তের উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্তের ফল এখনও গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রহ্লাদকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে দাবি, সেখান থেকে ফেরার সময় অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হন প্রহ্লাদ। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য সামনে এলেও কী পরিস্থিতিতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রহ্লাদের ভাই ধ্রুব জানিয়েছেন, সোমবার গভীর রাতে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিল। তখন তাঁর বাবা-মাকে সঙ্গে যেতে বলা হয়। কিন্তু সেই সময় প্রহ্লাদের মৃত্যুর কথা জানানো হয়নি বলে দাবি তাঁর। ধ্রুবের কথায়, রাত ২টো নাগাদ পুলিশ এসে বাবা-মাকে ডেকে নিয়ে যায়। সকালে তিনি জানতে পারেন, তাঁর দাদা পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছেন।

ধ্রুবের দাবি, ঘটনার দিন শনিবার রাতে তিনি দাদাকে বাড়িতে দেখেছিলেন। তাঁর আচরণে অস্বাভাবিক কিছু নজরে পড়েনি বলেও জানিয়েছেন তিনি। পরদিন কিশোরীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দাদার নাম জড়ানোর খবর শুনে হতবাক হয়ে যান। ধ্রুবের বক্তব্য, এলাকার প্রতিবেশীরাও এই অভিযোগ শুনে বিস্মিত হয়েছেন। তাঁর কথায়, দাদা এমন কাজ করতে পারেন, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।
নিহত যুবকের ভাই আরও জানিয়েছেন, কিশোরী মাঝেমধ্যে প্রহ্লাদের দোকানে যেত এবং দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হত বলে তিনি জানতেন। কিন্তু সেই বিবাদ থেকে এমন গুরুতর অপরাধ ঘটতে পারে, তা তাঁর ধারণার বাইরে ছিল। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত কিশোরীর সঙ্গে তাঁর মাকে নিয়ে মন্তব্য করা নিয়ে ক্ষোভের কথা জানিয়েছিলেন। তবে সেটিই অপরাধের কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রয়োজন।
গাইঘাটার ঘটনায় প্রহ্লাদের মৃত্যুর পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের একাংশ পুলিশের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে নিহতের পরিবারের বক্তব্যে সামনে এসেছে বিস্ময় ও অবিশ্বাস। পুলিশের হেফাজতে থাকা এক অভিযুক্তের কাছ থেকে কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব হল এবং গুলিচালনার পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্তের মৃত্যু এবং পরিবারের কাছে খবর পৌঁছনোর প্রক্রিয়া—দু’টি বিষয়ই এখন আলোচনায়। প্রহ্লাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি পুলিশি গুলিচালনার পরিস্থিতি সম্পর্কেও স্বচ্ছ তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমেই ঘটনার বিভিন্ন দিক স্পষ্ট হতে পারে।
