সংবাদ দিল্লি: দীর্ঘ টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শনিবার ৪০০-রও বেশি প্রতিনিধি নিয়ে দিল্লিতে পৌঁছবেন তিনি। কূটনৈতিক মহলের মতে, জিনপিংয়ের এই সফর ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আর এই সফরের নেপথ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেই দাবি সূত্রের।
গত ২৪ ও ২৫ আগস্ট চিনের বেজিংয়ে ২৫তম স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভস বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ডোভাল। ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনাই ছিল সেই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। তবে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, সীমান্ত নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়েও চিনা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেন ডোভাল।
বেজিংয়ে চিনা প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে একাধিক দফায় আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। শেষ পর্যন্ত চিনের তরফে দিল্লিকে জিনপিংয়ের ভারত সফরের বিষয়ে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। সেই মতোই ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার দিল্লিতে পা রাখার কথা চিনা প্রেসিডেন্টের।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার কথা জিনপিংয়ের। দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে ভারত-চিন সীমান্ত পরিস্থিতি থেকে শুরু করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, কূটনৈতিক সম্পর্ক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২০ সালের সংঘাতের পর ভারত-চিন সম্পর্কে দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হয়েছিল তীব্র শীতলতা। সীমান্ত বাণিজ্যও কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি বাণিজ্যিক যোগাযোগ ফের শুরু হলেও তার গতি এখনও আগের জায়গায় ফেরেনি। ফলে মোদী-জিনপিং বৈঠককে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।
বিশেষ করে সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ফেরানোর ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কেও নতুন গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে শি জিনপিংয়ের ভারত সফরকে ঘিরে অন্য সমীকরণও সামনে এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সূত্রের দাবি, জিনপিং ভারতে আসবেন না ধরে নিয়েই ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে ঢাকার অবস্থান তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা যায়।
এখন চিনের প্রেসিডেন্ট নিজেই যখন ভারতে এসে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন, তখন সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে বলে কূটনৈতিক মহলের একাংশের মত। ফলে চিনের উপর নির্ভর করে ব্রিকস বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এর আগে টি-২০ বিশ্বকাপ নিয়েও পাকিস্তানের উপর নির্ভর করে বাংলাদেশ বয়কটের অবস্থান নিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। পরে পাকিস্তানই বিশ্বকাপে যোগ দেওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল ঢাকাকে। এবার ব্রিকস নিয়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে কটাক্ষ শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে জিনপিংয়ের দিল্লি সফর যেমন ভারত-চিন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনই বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এখন নজর মোদী-জিনপিং বৈঠকের দিকে—সীমান্ত থেকে বাণিজ্য, কোন কোন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতার পথ খোলে, সেটাই দেখার।
