সাহালের গোলে মরসুম শুরু জয় দিয়ে
সংবাদ কলকাতা: জয় দিয়েই নতুন মরসুমের সূচনা করল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ডুরান্ড কাপের হাইভোল্টেজ কলকাতা ডার্বিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে গতবারের কোয়ার্টার ফাইনালের পরাজয়ের বদলা নিল সবুজ-মেরুন শিবির। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে একমাত্র গোলটি করেন সাহাল আব্দুল সামাদ। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই গ্যালারিতে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম।
প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা মেলেনি। মরসুমের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হওয়ায় ফুটবলারদের খেলায় কিছুটা জড়তা স্পষ্ট ছিল। মোহনবাগানের হয়ে মনবীর সিং, কিয়ান নাসিরি, লিস্টন কোলাসো এবং সাহাল কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল একাধিকবার দলকে রক্ষা করেন। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণও শেষ মুহূর্তে কার্যকর হয়ে উঠতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় মোহনবাগান। ডান প্রান্ত দিয়ে কিয়ান নাসিরির নিখুঁত ক্রস মনবীর সিংয়ের পায়ে পৌঁছয়। তিনি অসাধারণ ব্যাকহিল করে বল বাড়িয়ে দেন সাহালের দিকে। গোলমুখে দাঁড়িয়ে সাহাল কোনও ভুল না করে জালে বল জড়িয়ে দেন। ৫৩ মিনিটের সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফয়সালা করে দেয়।
গোল হজম করার পর আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস একের পর এক পরিবর্তন এনে মহম্মদ রশিদ, পি ভি বিষ্ণু এবং দানি রামিরেজকে মাঠে নামান। এরপর লাল-হলুদ একাধিকবার সমতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি করলেও মোহনবাগানের রক্ষণ এবং গোলরক্ষক বিশাল কয়েথ দৃঢ়তার সঙ্গে সব আক্রমণ প্রতিহত করেন।
৬৮ মিনিটে বিষ্ণুর জোরালো শট বিশাল আটকে দিলে ফিরতি বলও কাজে লাগাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। পরে দানি রামিরেজের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সংযুক্ত সময়ে রামিরেজের ক্রস থেকে মহম্মদ রশিদের সামনে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগ এলেও বিশাল কয়েথ দুরন্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। ফলে সমতায় ফিরতে পারেনি লাল-হলুদ শিবির।

পরিসংখ্যান বলছে, ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে আটটি গোলের সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলিকে কাজে লাগাতে পারেনি। অন্যদিকে মোহনবাগান তুলনামূলক কম সুযোগ পেয়েও একটিকে গোলে পরিণত করে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে। এই জয়ের মাধ্যমে শুধু মরসুমই শুভ সূচনা করল না সবুজ-মেরুন বাহিনী, গতবারের ডুরান্ড কাপের বিদায়েরও জবাব দিল মাঠের লড়াইয়ে।
