27 C
Kolkata
October 4, 2026
খেলা

চার গোল খেল ভারত, প্রশ্নের মুখে গুরপ্রীত

ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের তবু প্রশংসা

সংবাদ কলকাতা: ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে যুবভারতীতে ৪-০ গোলে হারল ভারত। তবে ফলের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে ভারতের গোলকিপার গুরপ্রীত সিংহ সঁধুকে নিয়ে। প্রথমার্ধে তাঁর দুটি ভুল থেকেই ব্রাজ়িল গোল করে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে তুলে নেন কোচ খালিদ জামিল। যদিও ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ব্রাজ়িলের হাতে চলে গিয়েছিল।

ভারত-ব্রাজ়িল ম্যাচের আগে গুরপ্রীতকে গ্লাভস দিয়ে চোখ মুছতে দেখা গিয়েছিল। আবেগের কারণেই হয়তো এমন হয়েছিল। ব্রাজ়িলের মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ যে কোনও ফুটবলারের কাছেই বিশেষ। কিন্তু ম্যাচে সেই আবেগকে আত্মবিশ্বাসে পরিণত করতে পারেননি ভারতের অভিজ্ঞ গোলকিপার।

ম্যাচের শুরুতেই ভিনিসিয়াসের শট বাঁচিয়ে দেন গুরপ্রীত। সেই মুহূর্তে গোটা স্টেডিয়াম তাঁকে করতালি দিয়ে উৎসাহিত করে। কিন্তু তার পরেই তাঁর পারফরম্যান্সে বড়সড় ছন্দপতন দেখা যায়।

২৮ মিনিটে এস্তেভাওয়ের শট তাঁর হাতের নীচ দিয়ে গোলে ঢুকে যায়। শটটি যথেষ্ট জোরালো হলেও গুরপ্রীতের নাগালের বাইরে ছিল না। গোলকিপারের দক্ষতায় ওই বল ঠেকানো সম্ভব ছিল। কিন্তু তিনি তা করতে পারেননি।

৪২ মিনিটে আবারও এস্তেভাওয়ের তৈরি করা আক্রমণ থেকে গোল। পেদ্রোর শট আটকাতে পা বাড়িয়েছিলেন গুরপ্রীত। কিন্তু বল তাঁর গ্লাভসে লেগে জালে চলে যায়। মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল হজম করে ভারত।

এর পরেও বিপদ এসেছিল। ভিনিসিয়াসের শট গুরপ্রীতের শরীরে লেগে গোলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। পিছন থেকে দানিলো ছুটে আসছিলেন। গুরপ্রীত নিজে বল ক্লিয়ার করার চেষ্টা না করে সতীর্থ আপুইয়াকে নির্দেশ দেন। আপুইয়া কোনও মতে বল বাইরে পাঠান। না হলে বিরতির আগেই তৃতীয় গোল হয়ে যেতে পারত।

এই জায়গাতেই গুরপ্রীতের মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি ভারতীয় দলের জন্য বড় সমস্যা। পানামার বিরুদ্ধেও কয়েক দিন আগে তাঁর ভুল থেকে গোল হয়েছিল। ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে ফের একই ধরনের ঘটনা ঘটায় তাঁর জায়গা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিশাল কাইথের মতো দেশের অন্যতম সেরা গোলকিপারকে এই দলে রাখা হয়নি। প্রভসুখন গিলকে শুরু থেকে বেঞ্চে রাখা হয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে গুরপ্রীতকে তুলে প্রভসুখনকে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় দল। যদিও তার আগেই ম্যাচের পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল।

অন্য দিকে ব্রাজ়িলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি শুরু থেকেই ভারতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ভিনিসিয়াস, মার্কুইনহোস, দানিলো এবং ডগলাস সান্তোসদের প্রথম একাদশে রাখা হয়েছিল। শুরুতে ভিনিসিয়াসের আক্রমণ ছাড়া ব্রাজ়িলকে খুব বেশি ভয়ঙ্কর দেখায়নি। ভারতও রক্ষণে জমাট ছিল এবং সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠছিল।

ভিনিসিয়াসকে আটকানোর দায়িত্বে থাকা অভিষেক সিংহও নজর কেড়েছেন। ব্রাজ়িলীয় তারকা তাঁর ড্রিবলিং দিয়ে কয়েক বার এগিয়ে গেলেও অভিষেক পিছনে ছুটে তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেছেন। সব সময় সফল না হলেও তাঁর লড়াইয়ের মানসিকতা প্রশংসা পেয়েছে।

বিরতির পর আনচেলোত্তি একাধিক পরিবর্তন করেন। ভিনিসিয়াস-সহ কয়েক জন তারকাকে তুলে মাঠে নামান গিমারায়েস, ডগলাস লুইজ এবং স্যামুয়েল লিনোকে। পরিবর্তিত দলও গোলের ধার কমায়নি।

৫৮ মিনিটে বিজয় ভার্গিজের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দূরপাল্লার শটে গোল করেন লিনো। এরপর ৬৪ মিনিটে ভারতের হয়ে সুযোগ তৈরি করেন রায়ান উইলিয়ামস। মার্কারের নাগাল এড়িয়ে বক্সে ঢুকে শট নিলেও তা বাঁচিয়ে দেন ব্রাজ়িলের গোলকিপার মাউরো।

কিছুক্ষণ পর মনবীর সিংহের সঙ্গে সমন্বয় করে ফের গোলের সুযোগ তৈরি করেন রায়ান। কিন্তু চলতি বলে তাঁর শট পোস্টের বাইরে চলে যায়।

শেষ দিকে ব্রাজ়িল আরও আক্রমণ করে। সংযুক্ত সময়ের শেষ মিনিটে লিনোর শট প্রভসুখনের শরীরের তলা দিয়ে ঢুকে গেলে চতুর্থ গোল পায় ব্রাজ়িল।

চার গোল খেলেও ভারতীয় দলের লড়াইকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা যাচ্ছে না। রায়ান, মনবীর, বিজয় এবং অভিষেকরা বেশ কিছু ভাল মুহূর্ত তৈরি করেছেন। ব্রাজ়িলের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ভারত বেশ কিছু সময় সাহসী ফুটবল খেলেছে।

তবে গুরপ্রীতের ভুলগুলি সেই ইতিবাচক দিকগুলিকে অনেকটাই আড়াল করে দিয়েছে। এখন সামনে ৬ অক্টোবর উরুগুয়ে। ব্রাজ়িল ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে গোলকিপিং এবং রক্ষণে ভুল কমিয়ে ভারত কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটাই দেখার।

Related posts

Leave a Comment