দিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ‘অবৈধ’ বলার জন্য কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গেকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান। খার্গের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে কোনও ‘শংসাপত্র’ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দেশের কোটি কোটি মানুষ তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন এবং তিনি দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
খার্গের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শনিবার একটি বিবৃতি জারি করেন শিবরাজ। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস নির্বাচনী পরাজয়ের পর গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন, ইভিএম এবং জনগণের রায় নিয়ে কংগ্রেসের আপত্তি আসলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অবিশ্বাসেরই প্রকাশ।
শিবরাজ বলেন, ‘খার্গেজি, চোখ খোলা রেখে দিবাস্বপ্ন দেখছেন কেন? যদি সত্যিই কেউ অবৈধ হন, তা হলে রাহুল গান্ধী এবং অবৈধ গান্ধী পরিবার, যাঁদের আপনারা দেশের নাগরিকদের উপর জোর করে চাপিয়ে দিতে চাইছেন।’ তিনি আরও বলেন, নরেন্দ্র মোদীর জনগণের কাছ থেকে পাওয়া রাজনৈতিক ম্যান্ডেট নিয়ে খার্গের কোনও শংসাপত্রের প্রয়োজন নেই।
খার্গে কর্নাটকে এক বক্তব্যে দাবি করেছিলেন, দেশের নির্বাচনগুলি ‘অবৈধ’ হয়েছে এবং সেই সূত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদী, অমিত শাহ এবং বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদেরও ‘অবৈধ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলি ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন এবং ব্যালট পেপারে ভোটের দাবিও জানান।
এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে শিবরাজ বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে ‘অবৈধ’ বলা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং দেশের মানুষের রায়ের প্রতি অসম্মান। তাঁর প্রশ্ন, ‘কংগ্রেসের কাছে কি গণতন্ত্র তখনই বৈধ, যখন গান্ধী পরিবার বা কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকে?’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্যে কংগ্রেসের অতীত নিয়েও আক্রমণ উঠে আসে। তিনি জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ টেনে অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের শাসনকালে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হয়েছিল এবং বিরোধী কণ্ঠকে দমন করা হয়েছিল। ১৯৮৪ সালের শিখ-বিরোধী হিংসার প্রসঙ্গও তুলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন তিনি।
শিবরাজের আরও দাবি, কংগ্রেস যখন কর্নাটক, তেলঙ্গানা বা হিমাচল প্রদেশে নির্বাচনে জয় পেয়েছে, তখন ইভিএম নিয়ে একই ধরনের প্রশ্ন তোলা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী ফল নিজেদের পক্ষে না গেলেই ইভিএম, নির্বাচন কমিশন এবং জনগণের রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়েও খার্গের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেন শিবরাজ। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামো রয়েছে এবং সেই ব্যবস্থায় বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে তিনি নিয়মিত ও আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়া বলে উল্লেখ করেন।
ইভিএমের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও কংগ্রেসের অভিযোগ খারিজ করেন শিবরাজ। তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট একাধিক ক্ষেত্রে ইভিএমের নির্ভরযোগ্যতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অবস্থান জানিয়েছে। ব্যালট পেপারে ফিরে যাওয়ার দাবি প্রসঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এতে অতীতের বুথ দখল ও ব্যালট বাক্স লুটের মতো অভিযোগের সময়ের দিকে দেশ ফিরে যেতে পারে।
অন্য দিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অতীতেও মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ফলে নির্বাচন, ইভিএম, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আরও তীব্র হয়েছে।
previous post
