নিউ জার্সি: দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে উঠে এল স্পেন। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে নিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় স্পেন। বলের দখল, পাসের নিখুঁত আদান-প্রদান এবং দ্রুত আক্রমণে বারবার চাপে পড়ে যায় আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ। লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, নিকো উইলিয়ামস ও মার্ক কুকুরেয়ার সমন্বিত আক্রমণে একাধিকবার বিপদে পড়লেও গোল হজম থেকে দলকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
অন্যদিকে, লিওনেল মেসিদের আক্রমণভাগ পুরো ম্যাচেই ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ। স্পেনের উচ্চ প্রেসিং ও সংগঠিত মিডফিল্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্পেন। ৬৪ মিনিটে দানি ওলমোর শট দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন মার্টিনেজ। এরপরও একের পর এক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট হয় স্পেনের।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৬ মিনিটে স্পেন বল জালে জড়ালেও ফাউলের কারণে VAR-এর সহায়তায় সেই গোল বাতিল করেন রেফারি। তবে স্প্যানিশদের আধিপত্য তাতেও থামেনি।
অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী মুহূর্ত। ডান প্রান্ত থেকে পেদ্রো পোরোর বাড়ানো বল নিকো উইলিয়ামসের স্পর্শে পৌঁছে যায় বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেসের কাছে। বক্সের ভেতর থেকে বাঁ-পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই এক গোলই বিশ্বকাপ নির্ধারণ করে দেয়।
এর আগে আর্জেন্টিনার অবস্থা আরও কঠিন হয়ে পড়ে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায়। শেষ মুহূর্তে মেসিদের মরিয়া চেষ্টা থাকলেও স্পেনের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। গোটা ম্যাচে আর্জেন্টিনার আক্রমণের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা, বিপরীতে স্পেন ধারাবাহিকভাবে গোলের সুযোগ তৈরি করেছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ২০১০ সালের পর আবারও সোনালি অধ্যায় রচনা করল স্পেন। ইনিয়েস্তাদের উত্তরসূরিরা নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে ফিরিয়ে আনল বিশ্বসেরার মুকুট। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার।
দীর্ঘ টুর্নামেন্টজুড়ে আধিপত্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নের আসন পুনর্দখল করল স্পেন। আর অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের সেই এক গোলই ইতিহাসের পাতায় লিখে দিল নতুন এক বিশ্বকাপ জয়ের গল্প।
