June 23, 2026
দেশ

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে, দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

দিল্লি— ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই দেশই দ্রুত একটি শক্তিশালী বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে, যা অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াবে এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগের দরজা খুলে দেবে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর।

মঙ্গলবার আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার দিল্লিতে পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মূল লক্ষ্য, প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম পর্যায়ের রূপরেখা চূড়ান্ত করা।

গ্রিয়ারের সফরকে স্বাগত জানিয়ে সার্জিও গোর সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘ভারতে আপনাকে স্বাগত। আমরা উচ্চাভিলাষী বাণিজ্য কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। একটি শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছি, যা দুই দেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করবে এবং ভারত-আমেরিকা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে।’

সূত্রের খবর, চলতি মাসের শুরুতে দুই দেশের প্রধান আলোচকদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় এবার মন্ত্রীস্তরের বৈঠকে বেশ কিছু বকেয়া বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চেষ্টা করা হবে।

ভারত ও আমেরিকা আপাতত একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তি তৈরি করবে। উভয় দেশই বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহী।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়। আগামী ২৪ জুলাই আমেরিকার আরোপিত অস্থায়ী ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এই শুল্ক বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ শুল্কের অতিরিক্ত হিসেবে কার্যকর রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়সীমার আগেই সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহী দুই দেশ।

এর আগে পীযূষ গোয়েলও আশাবাদ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাকি থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে। আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই চুক্তির প্রথম পর্যায় চূড়ান্ত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি উৎপাদন, প্রযুক্তি, কৃষি, পরিষেবা এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

Related posts

Leave a Comment