দিল্লি: প্রায় চার দশক ধরে দেশের অন্যতম আলোচিত বফর্স (Bofors) দুর্নীতি মামলাকে পুনরায় আদালতে তোলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India)। আইনজীবী তথা বিজেপি নেতা অজয় কে অগ্রবাল (Ajay K. Agrawal)-এর আবেদন শুনতে অস্বীকার করে বিচারপতি জেবি পরদীওয়ালা (Justice J.B. Pardiwala) এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন (Justice K. Vinod Chandran)-এর বেঞ্চ জানায়, এত পুরনো মামলাকে পুনরায় টেনে আনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট নয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত বফর্স মামলায় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর নতুন করে বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল।
বফর্স-কাণ্ডে হিন্দুজা গোষ্ঠীর কর্ণধার শ্রীচাঁদ হিন্দুজা, গোপীচাঁদ হিন্দুজা ও প্রকাশ হিন্দুজার পাশাপাশি সুইডেনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা সংস্থা এবি বফর্সের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের হয়েছিল। তবে ২০০৫ সালে দিল্লি হাই কোর্ট (Delhi High Court) হিন্দুজা গোষ্ঠীর শ্রীচাঁদ, গোপীচাঁদ ও প্রকাশ হিন্দুজা এবং এবি বফর্স (AB Bofors)-এর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ সিবিআই (CBI) পেশ করতে পারেনি।
উচ্চ আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছিল, ১৯৮৬ সালের বফর্স চুক্তিতে হিন্দুজা গোষ্ঠী ঘুষ নিয়েছে— এমন কোনও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ সিবিআই আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। সেই রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন অজয় কে অগ্রবাল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই আবেদন শুনতেই রাজি হয়নি দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
মামলার তদন্ত চলাকালীন নিজেদের দাবির সমর্থনে সুইডেন প্রশাসনের কিছু নথি আদালতে জমা দিয়েছিল সিবিআই। কিন্তু দিল্লি হাই কোর্ট জানিয়ে দেয়, সেগুলি মূল নথি নয়। পরে ২০১৮ সালে একই রায়ের বিরুদ্ধে সিবিআইও সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। সেই সময় শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তোলে, দিল্লি হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে সিবিআইয়ের ৪,৫২২ দিন সময় লাগল কেন।
বফর্স মামলার সূত্রপাত ১৯৮৬ সালের ২৪ মার্চ। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গাঁধীর আমলে সুইডেনের সংস্থা এবি বফর্সের সঙ্গে ভারতের ১,৪৩৭ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়। ওই চুক্তির আওতায় ৪০০টি হাউইৎজার কামান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এর পর ১৯৮৭ সালে সুইডেনের একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করে, এই প্রতিরক্ষা চুক্তির বিনিময়ে ভারতের কয়েকজন রাজনীতিক এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরের কিছু আধিকারিক ঘুষ নিয়েছেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয় এবং বফর্স কাণ্ড স্বাধীনোত্তর ভারতের অন্যতম আলোচিত দুর্নীতির অভিযোগে পরিণত হয়।বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তে সুপ্রিম কোর্ট কার্যত জানিয়ে দিল, এতদিনের বিচারিক প্রক্রিয়ার পর এই মামলাকে নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করার কোনও প্রয়োজন নেই।
previous post
next post
