গুয়াহাটি— আসামের কার্বি আংলং স্বশাসিত পরিষদ ৭৫ বছরে পা দিল। এই বিশেষ উপলক্ষে পরিষদের সদস্য এবং এলাকার বাসিন্দাদের শুভেচ্ছা জানালেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, এই মাইলফলক কার্বি আংলংয়ের মানুষের ঐতিহ্য, আত্মবিশ্বাস এবং উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, কার্বি আংলং স্বশাসিত পরিষদের ৭৫ বছরের পথচলা শুধু একটি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়, এটি এলাকার জনজাতি সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি, পরিচয় এবং অধিকার রক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামেরও প্রতীক।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘কার্বি আংলং স্বশাসিত পরিষদের ৭৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসে আন্তরিক শুভেচ্ছা। এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত কার্বি আংলংয়ের মানুষের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, দৃঢ়তা এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্নের প্রতিফলন। আগামী দিনেও এই পরিষদ শান্তি, উন্নয়ন এবং মানুষের ক্ষমতায়নের কাজে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
উল্লেখ্য, কার্বি আংলং স্বশাসিত পরিষদ আসামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান। ভারতের সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় গঠিত এই পরিষদ স্থানীয় প্রশাসন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং উন্নয়নমূলক একাধিক বিষয়ে বিশেষ ক্ষমতা ভোগ করে।
দিফুতে অবস্থিত এই পরিষদ গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্বি এবং অন্যান্য জনজাতি সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও পরিষদের অবদান উল্লেখযোগ্য।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কার্বি আংলংয়ে সড়ক যোগাযোগ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়েছে আসাম সরকার। ফলে জেলার উন্নয়নের গতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।
৭৫ বছর পূর্তিকে ঘিরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব, পরিষদের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ এই উপলক্ষে পরিষদের অবদান স্মরণ করেন এবং আগামী দিনে শান্তি ও সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য এবং জনজাতি সংস্কৃতির জন্য পরিচিত কার্বি আংলং বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নশীল অঞ্চল হিসেবে উঠে আসছে। ৭৫ বছরের এই যাত্রাপথকে তাই এলাকার মানুষের কাছে গর্বের অধ্যায় বলেই মনে করা হচ্ছে।
