July 27, 2026
কলকাতা

ধর্মতলা অশান্তি মামলায় আরও ২ গ্রেপ্তার, মোট ধৃত ১৬

ডোরিনা ক্রসিংয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ পুলিশের

সংবাদ কলকাতা: নিট ইউজি (NEET UG) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ ঘিরে ধর্মতলা (Dharmatala)-র অশান্তি মামলায় তদন্ত আরও জোরদার করল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। সোমবার সকালে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর ফলে এই মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। একই সঙ্গে পাঁচ অভিযুক্তকে ডোরিনা ক্রসিং (Dorina Crossing)-এ নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়।

পুলিশ (Kolkata Police) সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ধৃতদের একজন পার্ক সার্কাসের (Park Circus) কড়েয়া এলাকা এবং অন্যজন গার্ডেনরিচ (Garden Reach) এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন ভাঙচুর ও অশান্তিতে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার তদন্তের অংশ হিসেবে পাঁচ অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনাক্রম, প্রত্যেক অভিযুক্তের অবস্থান এবং তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। ওই সময় ধৃতদের পুলিশের সঙ্গে খালি পায়ে ঘটনাস্থলে যেতে দেখা যায়।

অভিযোগ রয়েছে, মিছিল চলাকালীন কয়েক জন সাংবাদিকের উপর হামলা চালানো হয় এবং তাঁদের লক্ষ্য করে জুতো ও বোতল ছোড়া হয়। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপরও হামলার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হেয়ার স্ট্রিট (Hare Street Police Station) ও এন্টালি (Entally Police Station)-তে মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলাগুলির তদন্তেই একের পর এক গ্রেপ্তারি চলছে।

এ দিন ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া পাঁচ অভিযুক্তের মধ্যে ছিলেন মহম্মদ আফরোজ (Md Afroz)। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) যাঁদের নাম প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন, আফরোজ তাঁদের অন্যতম। তাঁর সঙ্গে আরও চার অভিযুক্তকে নিয়ে তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে যান।

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ধর্মতলার মিছিলে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, পুলিশ প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করেছে, যাঁদের অধিকাংশই ছাত্র নন এবং আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল প্রশাসন।

উল্লেখ্য, নিট ইউজি (NEET UG) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার ধর্মতলায় এসএফআই (SFI)-সহ একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party)-র কর্মসূচিকে ঘিরেই অশান্তির সূত্রপাত হয়। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।

Related posts

Leave a Comment