অসম— ক্ষুদ্র চা-চাষিদের কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বড় পদক্ষেপ করল অসম সরকার। দেশের মধ্যে প্রথমবার কোনও রাজ্য ক্ষুদ্র চা-চাষিদের ‘ফার্মার্স রেজিস্ট্রি পোর্টাল’-এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে তাঁরা ‘ফার্মার আইডি’ পাবেন এবং কৃষকদের জন্য থাকা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সহজেই গ্রহণ করতে পারবেন।
অসম সরকারের এই উদ্যোগে ক্ষুদ্র চা-চাষিরা সেচ, সার ক্রয়, কৃষি ভর্তুকি, সরকারি সহায়তা এবং সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুবিধা পাবেন। সব পরিষেবাই একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মিলবে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই উদ্যোগকে ‘ঐতিহাসিক’ এবং ‘গেম চেঞ্জার’ বলে উল্লেখ করেছেন।
অসমের এই সিদ্ধান্তের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও একই ব্যবস্থা চালুর দাবি উঠেছে। ক্ষুদ্র চা-চাষিদের সর্বভারতীয় সংগঠন ‘সিস্টা’ ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের কাছে চিঠি পাঠিয়ে উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা-চাষিদেরও ‘ফার্মার্স রেজিস্ট্রি পোর্টাল’-এর আওতায় আনার আবেদন জানিয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষুদ্র চা-চাষের সঙ্গে যুক্ত। রাজ্যের মোট চা উৎপাদনের প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশই আসে ছোট চা-বাগান থেকে। তাই ক্ষুদ্র চা-চাষিদের কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।
চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মহলের মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা-চাষিদের আর্থিক নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনই উৎপাদন বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
