27.8 C
Kolkata
July 5, 2026
রাজ্য

উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা, ৩১৩ কোটি টাকার ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনা’ চালু রাজ্যে

কলকাতা: উত্তরবঙ্গের চা বাগানাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কেন্দ্রের আদলে রাজ্যে চালু হতে চলেছে ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনা’ (PMCSPY)। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আবাসন-সহ মৌলিক পরিকাঠামোর উন্নয়নে এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৩১৩.৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

শনিবার নবান্নে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রবিবার সকালে সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাঁদের পরিবারকে উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় লেখেন, “আমাদের পরিশ্রমী চা শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সার্বিক উন্নয়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্যেই রাজ্য স্তরের কমিটি প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্প চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনবে।”

নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

শনিবার নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের সচিব, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দফতরের সচিব, অর্থ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব, পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় উন্নয়ন দফতরের সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের প্রজেক্ট ডিরেক্টর-সহ একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক।

কোন খাতে কত টাকা?

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা হবে।

১. চা শ্রমিক শিক্ষা যোজনা (CSSY) – ১৭৭ কোটি টাকা

সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে। চা বাগান এলাকার শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

২. চা শ্রমিক স্বাস্থ্যসুরক্ষা যোজনা (CSSSSY) – ৭২ কোটি টাকা

চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির আধুনিকীকরণ, প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং শ্রমিক পরিবারগুলির সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৩. চা শ্রমিক আশ্রয় যোজনা (CSAY) – ৬৩ কোটি টাকা

শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে বিশ্রামের জন্য আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে ৬৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্পের আওতায় উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ৮৮টি এবং সমতল অঞ্চলে ২৩৩টি মিলিয়ে মোট ৩২১টি আধুনিক বিশ্রামাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে বিশ্রামাগারে সরকার জানিয়েছে, এই বিশ্রামাগারগুলিতে থাকবে অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা। এর ফলে দীর্ঘ সময় কাজ করা চা শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও মৌলিক পরিষেবা পাবেন।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের উপর বাস্তবায়নের দায়িত্ব

রো প্রকল্পের বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরকে। দফতরটি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দফতর, পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সরকারি সূত্রের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন পরিকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নিয়মিত পর্যবেক্ষণও করা হবে।

উত্তরবঙ্গের চা বলয়ে নতুন আশার বার্তা

উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স, তরাই এবং পাহাড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কয়েক লক্ষ মানুষ সরাসরি চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসনের উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন চা শ্রমিকরা। সরকারের নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চা বাগান এলাকার সামাজিক পরিকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

Related posts

Leave a Comment