28 C
Kolkata
August 13, 2026
রাজ্য

বাগনানে বিজেপি কর্মী খুনে আরও এক অভিযুক্ত গ্রেফতার, কড়া বার্তার পরেই সাফল্য পুলিশ-সিআইডির

হাওড়া, ২৬ জুন: বাগনানে বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে খুনের ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ ও সিআইডির যৌথ দল। শনিবার গভীর রাতে হাওড়ার শ্যামপুর এলাকা থেকে শেখ সইফুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার তাঁকে আদালতে তোলা হতে পারে।

গত ১৮ জুন বাগনানের আন্টিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ মফিজুল ইসলামের বাড়িতে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে নিহত হন বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে। অভিযোগ, মফিজুল ও তাঁর অনুগামীরা বিজেপি কর্মীদের উপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়। ওই ঘটনায় কয়েক জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত হন এবং তাঁদের মধ্যে প্রশান্ত দে-র মৃত্যু হয়।

শনিবার নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বাগনানে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, কোনও অভিযুক্তকে রেয়াত করা হবে না এবং প্রয়োজনে পাতাল খুঁড়েও তাঁদের গ্রেফতার করা হবে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সইফুদ্দিনকে গ্রেফতার করে তদন্তকারী দল।

এর আগেই এই মামলার তদন্তভার রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনার দিনই আট জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে আরও দু’জন ধরা পড়েন। এফআইআরে মোট ৫১ জনের নাম রয়েছে। সেই তালিকাভুক্ত অভিযুক্তদের মধ্যেই অন্যতম শেখ সইফুদ্দিন।

প্রশান্ত দে-র পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি নিহতের কন্যাকে বিডিও অফিসে চুক্তিভিত্তিক চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।

বাগনান থানায় গিয়ে পুলিশ ও সিআইডি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি তদন্ত দ্রুত শেষ করে বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অপরাধীদের কাউকেই ছাড়া হবে না।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল নেতা শেখ মফিজুল ইসলাম দীর্ঘদিন এলাকাছাড়া ছিলেন। তিনি এলাকায় ফিরতেই বিজেপি কর্মীরা তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে যান। সেই সময়ই হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ, যার জেরেই প্রাণ হারান প্রশান্ত দে।

Related posts

Leave a Comment