বীরভূম, ৩০জুলাই — বীরভূমের মহম্মদবাজারে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার করা হল মিনার মণ্ডলকে। অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় বলে পরিচিত মিনারের বাড়ি থেকে বুধবার উদ্ধার হয় প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা। রাতভর বাজেয়াপ্ত তালিকা তৈরির পর বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাঙ্কভর্তি নগদ অর্থ ও সোনা নিয়ে যান তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে বাড়ি থেকে আটক করে মিনারকে সিউড়ি আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মিনারকে নিয়ে যাওয়ার সময় তদন্তকারীরা একাধিক বার বিপুল পরিমাণ টাকা ও সোনার উৎস সম্পর্কে জানতে চান। তবে তিনি কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দেননি। যদিও মিনারের ছেলের দাবি, বাড়িতে এত নগদ অর্থ ও সোনা রাখা ছিল, সে বিষয়ে তাঁদের কোনও ধারণা ছিল না।
অন্যদিকে, বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বুন্দেশ জানিয়েছেন, তল্লাশির সময় মিনার স্বীকার করেছেন যে উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও সোনা টুলু মণ্ডলের অপরাধমূলক সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত।
তদন্তকারীদের দাবি, এই বিপুল অর্থ উদ্ধারের সূত্র মিলেছে একটি ডাকাতি মামলার তদন্তে। গত মঙ্গলবার মহম্মদবাজার থানার পুলিশ সাত জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই দেউচায় মিনারের বাড়িতে তল্লাশির সূত্র মেলে। এরপর মঙ্গলবার গভীর রাতে শুরু হয় অভিযান, যা বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলে।
গ্রেফতার হওয়া সাত অভিযুক্ত হলেন অর্জুন লোহার, শেখ গিয়াসউদ্দিন, শেখ ফরজুদ্দিন, পুলক সাহা, শেখ ফিরোজ আহমেদ, অভিনব ভাতসা এবং রবিকুমার গুপ্ত। বুধবার তাঁদের দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় সিউড়ি আদালত।

বুধবার রাতেই পুলিশ সুপার জানান, মিনারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২৮.৫ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা। এরপর রাতভর বাজেয়াপ্ত তালিকা তৈরির কাজ চলে। গোটা এলাকা ঘিরে রাখে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে মোট ছ’টি ট্রাঙ্ক এবং দু’টি আলমারি বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ট্রাঙ্ক ও আলমারিগুলির মধ্যেই নগদ অর্থ ও সোনা রাখা ছিল। বাজেয়াপ্ত সামগ্রী পুলিশের ভ্যান ও পৃথক পণ্যবাহী গাড়িতে করে সিউড়ি ট্রেজারিতে পাঠানো হয়েছে।


ঘটনায় বুধবারই প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সরকারি সম্পদ বা জনগণের অর্থ লুট করে যাঁরা বেআইনি সম্পত্তি গড়েছেন, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও এ বিষয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
এদিকে, উদ্ধার হওয়া বিপুল অর্থ ও সোনার প্রকৃত উৎস, টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তার যোগ এবং সম্ভাব্য অপরাধচক্রের আর্থিক লেনদেনের দিকগুলি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

