সংবাদ কলকাতা: কালীঘাট মন্দির পরিচালনায় দীর্ঘদিন ধরে একনায়কতন্ত্র, আর্থিক অনিয়ম এবং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার। মন্দির পরিচালনায় অবিলম্বে হস্তক্ষেপের পাশাপাশি সমস্ত অভিযোগের তদন্তে সিবিআই তদন্ত অথবা অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তদল গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। সম্প্রতি সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের তরফে সুপ্রিম কোর্টের কাছে একাধিক দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের অন্যতম দাবি, কালীঘাট মন্দিরে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অন্যান্য অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য অবিলম্বে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক। সিবিআই তদন্ত সম্ভব না হলে হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তদল বা সিট গঠনের আবেদন জানিয়েছে পরিবার পরিষদ।
মন্দির পরিচালনার কাঠামো নিয়েও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছে সাবর্ণ পরিবার। তাঁদের দাবি, আদালতের নির্ধারিত নিয়ম মেনে নতুন করে মন্দির পরিচালন কমিটি গঠন করা হোক। সেই কমিটিতে জেলা জজ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি, সাবর্ণ পরিবারের অন্তত দু’জন সদস্য এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা ধাপে ধাপে পদক্ষেপ করতে চাই। প্রথমে আমরা জেলা জজকে বিষয়টি জানিয়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছিলাম। সেখান থেকে কোনও জবাব না পাওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখতে বাধ্য হয়েছি। এ ক্ষেত্রেও যদি কোনও ফল না হয়, তা হলে পরবর্তী ক্ষেত্রে জনস্বার্থ মামলা করার কথা বিবেচনা করব।’
চিঠিতে কালীঘাট মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের বিষয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে। সাবর্ণ পরিবার পরিষদের দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও যথেচ্ছভাবে গর্ভগৃহে প্রবেশ করে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি ছবি ও ভিডিয়ো করা হচ্ছে। এর ফলে মন্দিরের ঐতিহ্য ও গরিমা নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক মহলে এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৫ বছরে একাধিক বার কালীঘাট মন্দিরের গর্ভগৃহে গিয়ে পুজো দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, গত তিন মাসের মধ্যে একাধিক বার কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়েছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
যদিও মুখ্যমন্ত্রীদের গর্ভগৃহে প্রবেশের বিষয়টি আলাদা করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেনি সাবর্ণ পরিবার। দেবর্ষি রায়চৌধুরীর বক্তব্য, তাঁদের অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক রং রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবাদের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক রং দেখিনি। তাই গর্ভগৃহে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের প্রবেশের বিষয়টি পৃথক ভাবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। তবে আমরা চিঠিতে জানিয়েছি, এত বৃহৎ একটি মন্দির পরিচালনার ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করুক দেশের সর্বোচ্চ আদালত।’
এদিকে সাবর্ণ পরিবারের চিঠি সম্পর্কে কালীঘাট মন্দির কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও সামনে এসেছে। মন্দিরের অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট রাজা ভট্টাচার্য বলেন, ‘কে কোথায় চিঠি পাঠিয়েছেন, তা আমাদের জানা নেই।’ ফলে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য ঘিরে কালীঘাট মন্দির পরিচালনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
