July 30, 2026
দেশ

‘বন্দে মাতরম’-এর অপমানে এবার জেল! তুমুল হট্টগোলের মধ্যেই লোকসভায় পাশ সংশোধনী বিল

নয়াদিল্লি: জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-এর সমমর্যাদা দিতে জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ বৃহস্পতিবার লোকসভায় পাস হয়েছে। এর আগে বুধবার বিলটি রাজ্যসভায় অনুমোদন পেয়েছিল। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পরই নতুন আইন কার্যকর হবে।

সংসদের বাদল অধিবেশনে বিলটি নিয়ে তুমুল হট্টগোলের মধ্যেই ধ্বনিভোটে এটি পাস হয়। বিরোধী দলগুলি নিট প্রশ্নফাঁস, ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি ভূমিকা এবং অন্যান্য ইস্যুতে সরব হয়ে ওয়াকআউট করে। সেই পরিস্থিতিতেই বিলটি লোকসভার অনুমোদন পায়।

এই সংশোধনের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এত দিন জাতীয় পতাকা, সংবিধান ও জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হলেও জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ সেই আইনের আওতায় ছিল না। নতুন সংশোধনের ফলে ‘বন্দে মাতরম’-ও একই আইনি সুরক্ষা পাবে।

আইন অনুযায়ী, জাতীয় গান বা জাতীয় সঙ্গীতকে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান, অবমাননা বা অসম্মান করলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।সংসদে আলোচনার সময় বিরোধী পক্ষের দাবি

ছিল, প্রশ্নফাঁস-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারকে আগে জবাব দিতে হবে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রশ্নফাঁস রুখতে সরকারের পদক্ষেপ নিয়েও সমালোচনা করেন। তবে সরকার জানায়, জাতীয় সম্মানের বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে এবং দেশের মর্যাদা রক্ষায় এই সংশোধনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বন্দে মাতরম’ রচনা করেন। পরে ১৮৮২ সালে প্রকাশিত ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে গানটি স্থান পায়। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথমবার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে গানটি পরিবেশন করেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠা এই গানকে দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় সঙ্গীতের সমমর্যাদা দেওয়ার দাবি উঠেছিল। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই কেন্দ্র এই সংশোধনী বিল আনে।

Related posts

Leave a Comment