September 14, 2026
রাজ্য

হিন্দি ঐক্যের সেতু, ২১ রাজ্যে ইউসিসির বার্তা শাহের

দিল্লি—হিন্দি কোনও আঞ্চলিক ভাষার প্রতিযোগী নয়, বরং ভারতের বৈচিত্র্যময় ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে মেলবন্ধন তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। হিন্দি দিবস উপলক্ষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের ভাষাগত ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, ভারতের বহুভাষিক বৈচিত্র দেশের দুর্বলতা নয়, বরং সেটাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। একইসঙ্গে বক্তব্যের মধ্যে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে তিনি জানান, ২০২৯ সালের আগেই দেশের অন্তত ২১টি রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি চালু করবে।

প্রতি বছর ১৪ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে হিন্দি দিবস পালিত হয়। ১৯৪৯ সালের এই দিনেই ভারতের সংবিধান সভা দেবনাগরী হরফে লেখা হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। সেই ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে অমিত শাহ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ভারতীয় ভাষাগুলিই সাধারণ মানুষের কাছে দেশের উন্নয়ন, প্রশাসনিক কাজ এবং রাষ্ট্রগঠনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তাঁর বক্তব্য, হিন্দির পাশাপাশি সমস্ত ভারতীয় ভাষাই জাতীয় ঐক্য এবং স্বরাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।


নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ভারতের ইতিহাসের একাধিক নজিরও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর মাতৃভাষা গুজরাটি হলেও তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সত্যার্থ প্রকাশ’ তিনি হিন্দিতে রচনা করেছিলেন। আবার বাংলাভাষী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আজাদ হিন্দ ফৌজের যোগাযোগের প্রধান ভাষা হিসেবে হিন্দিকে বেছে নিয়েছিলেন এবং ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান দিয়েছিলেন।

অমিত শাহ আরও বলেন, ১৯১৮ সালে মাদ্রাজ, বর্তমান চেন্নাইয়ে ‘দক্ষিণ ভারত হিন্দি প্রচার সভা’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, ভারতের ভাষাগত বৈচিত্রের মধ্যে হিন্দি একটি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লাল কেল্লার ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহ বলেন, পরাধীন মানসিকতা থেকে মুক্ত হওয়ার যে আহ্বান প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ভাষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রভাব কাটানোর প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অমিত শাহের কথায়, দিল্লির ‘রাজপথ’-এর নাম বদলে ‘কর্তব্য পথ’ করা শুধুমাত্র নাম পরিবর্তনের ঘটনা নয়, বরং জাতীয় স্বাভিমান প্রতিষ্ঠার প্রতীক। একইভাবে ব্রিটিশ আমলের পুরনো দণ্ডবিধির পরিবর্তে দেশে এখন কার্যকর হয়েছে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’, ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ এবং ‘ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম’। তাঁর দাবি, এগুলি শুধুমাত্র কয়েকটি শব্দের পরিবর্তন নয়, বরং দেশের আত্মমর্যাদা ও গর্ব পুনরুদ্ধারের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

হিন্দি দিবসের মঞ্চ থেকেই অমিত শাহের ইউসিসি নিয়ে বার্তাও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২০২৯ সালের আগেই অন্তত ২১টি রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করবে। ফলে ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বার্তার পাশাপাশি ইউসিসি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানও এদিন স্পষ্ট করে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Related posts

Leave a Comment