সংবাদ কলকাতা, ৬ জুলাই: উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত এসি লোকাল পরিষেবা চালু হল। প্রথম দিন থেকেই এই নতুন পরিষেবাকে ঘিরে যাত্রীদের মধ্যে দেখা গেল ব্যাপক উৎসাহ। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রথম সফরে বেরোলেন, আবার কেউ বহু দিনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে প্রথম দিনের ট্রেনেই চড়লেন। নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি হাসনাবাদ শাখার যাত্রীদের কাছেও এই পরিষেবা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসত থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত এসি লোকালের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ টাকা। প্রতিদিন ট্রেনটি সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে শিয়ালদহ থেকে বারাসাতের উদ্দেশে ছাড়বে। ফের সকাল ১১টা ২৯ মিনিটে বারাসাত থেকে শিয়ালদহের উদ্দেশে রওনা দেবে। ট্রেনটি মধ্যমগ্রাম ও বিরাটি হয়ে গন্তব্যে পৌঁছবে।
প্রথম দিনের যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন বারাসাতের বাসিন্দা দেবব্রত বসু। তিনি জানান, স্ত্রী দেবাঙ্গীকে কথা দিয়েছিলেন, বারাসত থেকে এসি লোকাল চালু হলে প্রথম দিনেই পরিবারকে নিয়ে কলকাতা যাবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে ট্রেন ছাড়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগে পরিবার-সহ বারাসাত স্টেশনে পৌঁছে যান। চার জনের টিকিট কেটে নতুন পরিষেবার প্রথম দিনের সফরে সামিল হন তাঁরা।
জানালার ধারের আসনে বসে বৃষ্টিভেজা পথ দেখতে দেখতে দেবাঙ্গী বসু বলেন, ‘কলকাতায় গরমের সময় এই ধরনের পরিষেবার খুব প্রয়োজন ছিল। অনেক দিন ধরেই এই ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলাম। আজ প্রথম দিনেই পরিবার-সহ সফর করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’
দেবব্রত বসুর কথায়, আধুনিক ও আরামদায়ক এই পরিষেবা যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে ভাড়া যদি কিছুটা কম হতো, তাহলে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ নিয়মিত এই ট্রেনে যাতায়াত করতে পারতেন।
রেলের দাবি, পরিষেবা শুরুর প্রথম দিনেই যাত্রীদের সাড়া ছিল সন্তোষজনক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেলের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বারাসাতের বিধায়ক শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়।
এর আগে শিয়ালদহ-বনগাঁ শাখায় একটি এসি লোকাল চালু হয়েছিল, যা রানাঘাট থেকে বনগাঁ হয়ে শিয়ালদহ পর্যন্ত চলাচল করে। এবার শুধুমাত্র বারাসত ও শিয়ালদহের মধ্যে পৃথক এসি লোকাল চালু হওয়ায় এই রুটের নিত্যযাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দিনের ব্যস্ত সময়ে এই পরিষেবা চালু হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ, ছাত্রছাত্রী এবং প্রতিদিন যাতায়াতকারী বহু যাত্রী উপকৃত হবেন বলে আশা রেলের। আরামদায়ক যাত্রার পাশাপাশি গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এসি লোকাল যাত্রীদের অতিরিক্ত স্বস্তি দেবে বলেও মনে করছেন অনেকে।
